অনলাইন ডেক্স : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ‘নীড় ফাউন্ডেশন’ নামক এক এনজিওর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ফাঁদে পরে শতাধিক পরিবার প্রায় ৩০ লাখ টাকা খুইয়ে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। গত রবিবার (৬ জুলাই ) ঋণ প্রদানের তারিখে ভুক্তভোগীরা এনজিও অফিসে এসে তালাবদ্ধ দেখে বাড়ির মালিক লাভলীকে জিজ্ঞেস করতে গেলে সেখান থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই দিন ভুক্তভোগীরা সম্মিলিতভাবে আসলেও বাড়ির মালিক তাদের সঙ্গে একই আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী বিপুল, ইউপি সদস্য মমিন, জিয়া, আমিরুল সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, কুমারখালী দুর্গাপুর কাজীপাড়া এলাকায় মৃত ডাক্তার আব্দুল বারিকের মেয়ে লাভলীর বাড়িতে নীড় ফাউন্ডেশন নামক এনজিও অফিস ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। এনজিওর ম্যানেজার হাবিবুর রহমান ও মাসুদ নামের ব্যক্তি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে অফিসে আসতে বলেন।
তারা এনজিওর অফিসে আসলে এখানে বিনিয়োগ করলে কোন সমস্যা হবেনা বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করেন বাড়ির মালিক লাভলী । এই আশ্বাসের ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকায় ১ লাখ টাকা ঋণ এভাবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবার আশায় ঋণ ফরম পূরণের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন অংকের টাকা প্রদান করেন। এবং গত ৬ তারিখে ঋণ প্রদানের দিন অফিস এসে তালাবদ্ধ দেখতে পান। এসময় তারা বাড়ির মালিক লাভলীর কাছে এনজিও সম্পর্কে জানতে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিকে ভুক্তভোগীরা এনজিওর ফার্নিচার লুটপাট করে নিয়ে যেতে পারে এই মর্মে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন লাভলী।
বাড়ির মালিক লাভলীর এমন আচরণে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরেছেন বলে জানান তারা। তাদের মধ্যে রহমত ও আকাশ নামের দুজনের এনজিওর ম্যানেজারের সঙ্গে টাকা লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ আছে বলে জানান তারা। টাকা ফেরত পেতে এরইমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কুমারখালী থানা, র্যাব-১২ কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন দপ্তরে তারা অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
বিষয়টি জানতে বাড়ির মালিক লাভলীর বাড়িতে গিয়ে প্রধান দরজায় তালাবন্ধ দেখে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি আকিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।