মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি : মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের অনুকূলে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে জমিসহ ঘর হস্তান্তরে আন্তর্জাতিক ভাবে সুনাম অর্জন করেছেন সরকার। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের এ ঘর কোন প্রকার হস্তান্তর নিয়ম না থাকলেও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বেশ কয়েকটি ঘর কেনা-বেচার অভিযাগ উঠেছে। উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের খেতাছিড়া গ্রামে বেশ কয়েকটি ঘর হস্তান্তরের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে খেতাছিড়া গ্রামে দেখা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর এর প্রকৃত মালিক শাহ আলম, তিনি ঢাকায় থাকেন। তার সেই ঘরে থাকে খালাত ভাই দুলাল স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। পাখি বেগমের নামের বরাদ্ধকৃত ঘরে তার বোনের ছেলের স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। তবে পাখি বেগম রাস্তার পাশে ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন। আনসার উদ্দিন চাপরাসি তিনি চট্টগ্রাম থাকেন। তার ঘরে জালাল হাওলাদার নাম এক ব্যক্তি স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। প্রবাসি রফিকুলের নামে বরাদ্ধকৃত ঘরে থাকেন তার ভাই মনির কাজী পরিবার। এরকম আরও বেশ কয়েকটি ঘর অর্থের বিনিময় বেচা-কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসকল ঘরে বসবাস কারীরা অর্থের বিনিময় বেচা-কেনার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কেন এবং কিভাবে বসবাস করছেন ? এমন প্রশ্নের বিষয়টি বার-বার এড়িয়ে যান।
এদিকে শুরুতেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলো স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি বহু সঠিক প্রাপ্যদের বাদ দিয়ে জনপ্রতিনিধিরা ভোট বাণিজ্যে বা অর্থের বিনিময়ে সুবিধামতো ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্ধ দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা এসকল অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার বলেন, স্থানীয় জন প্রতিনিধিরাই তালিকা করেছেন। জন প্রতিনিধি ছাড়া সঠিক দুস্থ্য বাছাই কার সম্ভব নয়।
মঠবাড়িয়া উপজেলা সহবারি কমিশণার (ভূমি) সৈকত রায়হান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শেখ উপহার আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তর বা বিক্রির কোন সুযোগ নেই। তদন্তকরে এই রকমের কোন প্রমান পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
