বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফুটবলার ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণে অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী রাজক্ষমার পর সম্পূর্ণ মুক্তি পেলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন দেশে বৈধ মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ: সংসদে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বিশ্বশান্তি ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম একটি অনন্য উদ্যোগ : প্রধানমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক, মির্জা ফখরুল ও জামায়াত-কেউ ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে : জামায়াত আমির অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় সীমিত সম্পদে সবার সুখ-দুঃখ বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন-অর্থমন্ত্রী একনেকে দুই হাজার ২৬৬ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন ৪৭ কোটি টাকায় সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছে সরকার, বিশ্বকাপ দেখাবে বড় পর্দায়

ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে : জামায়াত আমির

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৫ টাইম ভিউ
ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে : জামায়াত আমির

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, জোরপূর্বক দখল করা ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণের দাবিতে আলোচনা উত্থাপন করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের জন্য এস আলম গ্রুপের কাছে শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছিল চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থ ব্যবহার করেই এস আলম গ্রুপ বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে প্রায় ১০ হাজার কর্মচারীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হলেও তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ গেছে—এমন অভিযোগ প্রমাণ করা গেলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পুরস্কৃত করবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যে-ই হোক না কেন, দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ব্যাংকটি দখলের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্প কোনো রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর নয়; সব ধর্মের মানুষ এর সুবিধাভোগী।

নিজেকে ইসলামী ব্যাংকের একজন ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি সব ধর্ম ও মতের মানুষের প্রতিষ্ঠান।

ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, অতীতে অনিয়ম ও এস আলম গ্রুপকে সহযোগিতার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে, যা একটি সংকটাপন্ন ব্যাংকের জন্য উদ্বেগজনক।

ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংকটি দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার প্রতীক। এই আস্থা নষ্ট হলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র চার দিনে গ্রাহকরা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব নির্দেশ করে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো পূর্বধারণা নয়, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামী ব্যাংককে রক্ষা করতে হবে। ব্যাংকটির প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতেও আস্থা ফিরে আসবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকটি যদি সংকটে পড়ে, তাহলে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়বে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর