২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রায় শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আগামী ৭ জুনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার (০৩ মে) সকালে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য দেন। তিনি জানান, শুধু মাত্র ঢাকাতেই ৩২ জনের হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে। চিফ প্রসিকিউটর আরও জানিয়েছেন, এই সমাবেশকে ঘিরে ঢাকার বাইরে যত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেটিও যুক্ত হবে ট্রাইব্যুনালের মামলায়। তদন্তের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যেই দাখিল করা হবে তদন্ত প্রতিবেদন।
এই মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, শাহরিয়ার কবিরসহ ৬ জন। চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, সেই সময়ের নির্দেশনা দেয়া রাজনীতিবিদ, পুলিশ, অর্থের যোগানদাতা সহ প্রায় ২৫ জনের বেশি আসামি হতে পারেন এই মামলায়।
তখন সেই ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি, রঙ মেখে শুয়ে থাকাসহ এমন নানান কথা বলা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। তবে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন তদন্তে উঠে এসেছে সেই রাতের ভয়াবহ চিত্র। চিফ প্রসিকিউটর বলছেন, পরিকল্পিত সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। শুধু ঢাকাতেই অন্তত ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। শেষের দিকে হওয়ায় প্রকৃত হত্যার সংখা এখনি বলা যাচ্ছে না।
১৩ বছর আগে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ও নারী নীতির বিরোধিতা করাসহ ১৩ দফা দাবি তুলে হেফাজতে ইসলাম ওই কর্মসূচি নিয়েছিল।
২০১৩ সালের ৫ মে দিনভর উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়েছিল ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। সেই রাতে রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের শাপলা চত্বর ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক ভীতিকর পরিবেশ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ–র্যাব ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির অভিযানে খালি করা হয়েছিল শাপলা চত্বর।