বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রাম্পের উদ্যোগ বাতিল করে দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট, বহাল থাকল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস, অনলাইন বেটিংয়ে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস; ১ জুলাই থেকে কার্যকর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড যাত্রাবাড়ীর মামলায়ও খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ঙ্গোপসাগরে মৎস্য সংকট, ধ্বংসের মুখে সুনীল অর্থনীতি, দায়ী অবৈধ ট্রলিং ও অব্যবস্থাপনা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে গাছ ফেলে মহাসড়ক অবরোধ জুলাই মাসে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম

দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ টাইম ভিউ
দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

১৯২১ সালের ১ জুলাই যে প্রদীপ জ্বলে উঠেছিল রমনার সবুজ চত্বরে, কালের আবর্তে তা আজ ১০৬ বছরে পদার্পণ করল। ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেবল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠই নয়, বরং এ দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও স্বাধিকার আন্দোলনের এক অবিনাশী বাতিঘর।

আজ ১ জুলাই, গৌরবময় ১০৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্মরণ করছে তার বর্ণিল অতীতকে এবং একই সাথে বুনছে আগামী দিনের স্মার্ট ও গবেষণামুখী পথচলার স্বপ্ন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে, এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ভিসি প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, অভিভাবক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর অগ্রযাত্রা এবং শিক্ষা ও গবেষণার আধুনিকায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভিসির সভাকক্ষে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে গঠিত বিভিন্ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য-সচিবরা। সভায় দিবস উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়।

সমাবেশ ও শোভাযাত্রা : দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রা সহকারে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। সেখান থেকে সকাল পৌনে ১০টায় ভিসির নেতৃত্বে ক্যাম্পাসজুড়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে, যাতে অংশ নেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

উদ্বোধনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং কেক কাটা হবে। এ সময় সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং এবং রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত পরিবেশিত হবে। পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আরেকটি সংগীত পরিবেশনারও আয়োজন থাকছে।

সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিপাদ্যের ওপর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যাতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন ভিসি প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ থাকলেও পরীক্ষাসমূহ যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

এ দিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে বিকাল ৩টায় প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর ড. আবদুস সালাম। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন অর্থনীতি বিভাগের সাবেক প্রফেসর ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ।

এদিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে দেয়া এক বানীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষ্যে আমি সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’

তিনি বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে। অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা।

এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে, যা বাস্তব জীবনে যেকোনো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে। এ কারণেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি শুধু পরিকল্পনা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সেইসব প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে জায়গা করে নিতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায়ও পারদর্শী হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর