বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারত ২০২৪-এর ভোটের ফলাফলে নিজেকে আরো চিত্তাকর্ষক প্রমাণ করল। পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত (গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টা) যা দাঁড়িয়েছে তাতে লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ম্যাজিক নাম্বার ২৭৩ এককভাবে অর্জন করতে পারেনি বিজেপি। এখন পর্যন্ত ২৪২টি আসন বিজেপির পক্ষে দেখাচ্ছে। বিজেপি এককভাবে না হলেও তার নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সংখ্যা নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারে।
বিজেপির গতবারের সরকার এককভাবে ৩০৩ লোকসভা আসনের সরকার ছিল। এবার যদি এনডিএ শরিকদের ওপর আশ্রয় করে সরকার গঠন করতে হয় তবে সেটা নরেন্দ্র মোদির জন্য তেমন সম্মানজনক নয়। ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদি নিজে বলেছিলেন, ‘অবকি বার চার শ পার (এবার ৪০০ আসন পার হয়ে যাবে)!’ কিন্তু সেই বিপুল ভোটে জয়লাভের সম্ভাবনা কিন্তু দেখা গেল না। আজ দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক।
এই বৈঠকে যোগ দিতে জোটের সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আহবান জানানো হয়েছে। মমতা নিজে না গেলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠাচ্ছেন। শরদ পাওয়ারসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দলের নেতারাও সেখানে হাজির থাকছেন। এখন পর্যন্ত অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরই সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
মোদি রাত অবধি দলীয় অফিসে বসে বিজেপিকে অনেক আসনে জেতানোর জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষকে। তিনি নিজে আজও দলের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড। মোদির নামেই ভোটে লড়েছে বিজেপি তথা এনডিএ। এবারের ভোটের ফলে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে গেছে যে রামমন্দির সেভাবে ফ্যাক্টর হয়নি। এ ধারণা অবশ্য ভোটের শুরুতেই মাথাচাড়া দিয়েছিল।
দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার অনুযায়ী অযোধ্যায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির তৈরি করেছে বিজেপি। ভোটের কিছুদিন আগেই তার উদ্বোধন হয়েছে। বিষয়টি ভোটের ব্যাপক সাফল্য আনবে বলে আশা করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয়নি।
ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কেন্দ্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকা জরুরি। প্রত্যাশামতোই নরেন্দ্র মোদি যদি আবার ক্ষমতায় আসেন তাহলে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির পথেই যাবেন। পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে একে বিভিন্ন রাষ্ট্রে যাবেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কারো কারো সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়া কার্যত অন্য প্রতিবেশীরা ঠিক সেইভাবে আগের কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করছে না। চীনের প্রভাব-প্রতিপত্তি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মালদ্বীপ ও মিয়ানমারে যেভাবে চীনা প্রভাব বাড়ছে তা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। সেই জন্য সম্ভাব্য নতুন মোদি সরকার বিমসটেক, সার্কসহ সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ফোরামে আরো সক্রিয় হবে বলে ধারণা করা যায়। নতুন প্রধানমন্ত্রী সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দিতে যাবেন। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। ইসরায়েল-হামাস সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও উদ্বেগ রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে।