ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এলব্রুস জয় করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দেশে ফিরিয়ে দিয়েছেন পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত রাশিয়ান হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অতিথিদের কাছে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করেন তিনি। এ সময় অভিযানের অভিজ্ঞতা ও রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো ছবির মাধ্যমে তুলে ধরেন এই পর্বতারোহী।
অনুষ্ঠানে দেশের পর্বতারোহণের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাকিল বলেন, পর্বতারোহীরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি অভিযানের জন্য স্পন্সর সংগ্রহ করতে তাঁদের অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। অথচ প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে পর্বতারোহীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও পদক দেওয়া হয়। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা না গেলে একসময় বাংলাদেশে পর্বতারোহণের চর্চা হারিয়ে যেতে পারে।
পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে শাকিলের তোলা মাউন্ট এলব্রুস অভিযানের ৫০টি ছবি নিয়ে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক অ্যালেক্সান্দ্রা খ্লেভনয়ে।
বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সেক্রেটারি সাদিয়া সুলতানা জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পাখি বিশেষজ্ঞ ও অ্যান্টার্কটিকা অভিযাত্রী ইনাম আল হক, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি ডা. নিয়াজ আব্দুর রহমান এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সীমান্ত দীপু। এর আগে পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এম. জাকির হোসেন খান এবং জ্যাপের এডিটোরিয়াল কনসালট্যান্ট আকিব সাফওয়ান।
উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় মাউন্ট এলব্রুসের চূড়ায় আরোহণ করেন শাকিল। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ অভিযান’ উপলক্ষে ঢাকার রাশিয়ান হাউসে তাঁর হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বর অভিযানের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার পথে যাত্রা করেন তিনি।
অভিযানটি যৌথভাবে আয়োজন করে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করে টার্কিশ এয়ারলাইনস, জ্যাপ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, আলিয়া শিপিং লিমিটেড, এমকে এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও নেচার ইনসাইটস। সহযোগিতায় ছিল ইউএন ভলেন্টিয়ার (ইউএনভি) ও কিরণ স্টাডি।