শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দোনেৎস্ক-লুহানস্কের নিয়ন্ত্রণসহ যে শর্ত দিলেন পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭৬ টাইম ভিউ

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিচুক্তির জন্য কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া। বিনিময়ে দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের কিছু এলাকা ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এছাড়া ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ না দেওয়া, রুশ ভাষা ও রুশ অর্থোডক্স গির্জার মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় পুতিন এসব শর্ত তুলে ধরেন। রয়টার্সকে দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। গত শুক্রবার আলাস্কার সামরিক ঘাঁটিতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের পরদিন এ তথ্য সামনে আসে। এটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান যুদ্ধের পর দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বৈঠকে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত না হলেও ভূমি ভাগাভাগি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় ‘বড় ঐকমত্য’ হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি। ইউক্রেনকে রাজি হতে হবে।”

শনিবার ট্রাম্প এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের অবহিত করেন। সূত্রগুলো জানায়, প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গ নয় এবং ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের নেতাদের আলোচনার ভিত্তিতে দেওয়া। পুতিন বলেছেন, সম্পূর্ণ সমঝোতা না হলে যুদ্ধবিরতি হবে না। এতে জেলেনস্কির যুদ্ধবিরতির দাবি থমকে যাচ্ছে, যখন প্রতিদিন ইউক্রেনে রুশ হামলা চলছে।

প্রস্তাবের বিস্তারিত:

ভূমি নিয়ন্ত্রণ: কিয়েভের বাহিনীকে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক থেকে সরে যেতে হবে। বিনিময়ে খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে রাশিয়া। তবে ইউক্রেন দোনেৎস্ক ছাড়তে রাজি নয়, কারণ সেখানে তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ডিপ স্টেটের তথ্য অনুযায়ী, দনবাসের ৬৬০০ বর্গকিলোমিটার ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে, যা রাশিয়া দাবি করে।

ক্রিমিয়ার স্বীকৃতি: ২০১৪ সালে দখলকৃত ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চান পুতিন। যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা দেশ ও ইউক্রেন এতে রাজি হয়নি।

ন্যাটো থেকে দূরে থাকা: ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার শর্ত। বিনিময়ে কিছু নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন পুতিন।

রুশ ভাষা ও গির্জা: ইউক্রেনে রুশ ভাষাকে সরকারি মর্যাদা এবং রুশ অর্থোডক্স গির্জাকে অবাধ কার্যক্রমের অনুমতি চান। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এই গির্জাকে রাশিয়ার সহযোগী বলে অভিযোগ করে, যদিও গির্জা অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনে এসব প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধের আইন পাস হয়েছে, কিন্তু কার্যকর হয়নি।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার তেল ক্রয়কারী দেশগুলোর (যেমন চীন) বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে বিবেচনা করা যেতে পারে।

জেলেনস্কি আগামীকাল সোমবার ওয়াশিংটন সফরে যুদ্ধের সমাধান নিয়ে আলোচনা করবেন। এসব শর্ত ইউক্রেনের জন্য চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এতে ভূমি ছাড়তে হবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর