মানিকগঞ্জে মো. শহিদ নামের এক সুদি ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে ছলিম মিয়া নামের এক ডাব ব্যবসায়ী সর্বশান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানা ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও মিলছে না আইনি সহায়তা । অভিযুক্ত মো. শহিদ মানিকগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম সেওতা এলাকার মো. সবুরের ছেলে। অভিযোগকারী ছলিম মিয়া ওরফে সেলিম পৌর শহরের পশ্চিম দাশড়া এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জেলা সদর হাসপাতালের গেটে ডাবের ব্যবসা করেন ছলিম মিয়া। তিন বছর আগে ব্যবসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে টাকার দরকার হলে একই স্থানে আরেক ডাব ব্যবসায়ী জাকিরের সঙ্গে আলোচনা করলে তার মাধ্যমে অসাধু সুদি ব্যবসায়ী শহিদের যোগাযোগ হয়। পরে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাওলাত নেন ছলিম মিয়া। পরে শহিদ ও তার ভাই মহিদ এবং জাকির মিলে তাকে উক্ত টাকার জন্য তাহাদের প্রতিদিন এক হাজার একশত টাকা করে মাসে তেত্রিশ হাজার টাকা দিতে হবে বলে। তাদের উক্ত টাকা দিতে না চাইলে তারা ছলিমকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও খুন জখমের হুমকি প্রদান করে।
খুন জখমের হুমকি প্রদান করায় ছলিম তাদের ভয়ে প্রতিদিন বিবাদীদেরকে এক হাজার একশ টাকা করে অদ্যবধি পর্যন্ত প্রায় বারো লাখ টাকা পরিশোধ করে ছলিম। ভয়ে তাদের এইভাবে টাকা দেওয়ায় একেবারে সর্বশান্ত হয় ছলিম। পরে তাদের আর টাকা না দিতে চাইলে তারা পূর্বের ন্যায় হুমকি প্রদান করতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মে রাতে শহিদ মহিদ ও জাকিরসহ পাঁচ থেকে ছয়জন মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম দাশড়া ছলিমের নিজ বাড়িতে গিয়ে ছলিমকে ব্যাপক হুমকি দেয়।
তার পর ছলিমের নিজ নামে সিটি ব্যাংক, মানিকগঞ্জ শাখার একাউন্ট নং-২১০১৪৫৯০২৫০০১ এর চেক বই থেকে ৫/৬ টি চেকের পাতায় স্বাক্ষর করিয়ে স্বাক্ষরিত চেকের পাতা নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে শহিদ নিজে এবং বিভিন্নজনকে দিয়ে আদালতে মামলা করে জমিজমাসহ সর্বস্ব লিখে নেওয়ার হুমকি দেন। এতে নিরুপায় হয়ে গত ২ জুলাই মানিকগঞ্জ সদর থানা ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করে ছলিম। তাতেও আইনগত কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না ছলিম। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে তার খপ্পরে পরে সর্বশান্ত হয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। এ বিষয়ে অভিযোগকারী ছলিম মিয়া বলেন, আমি নিরীহ মানুষ। আমার ওপর এমন অবিচারে সর্বশান্ত হয়ে গেছি। তাই থানা ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।