শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

গাজায় ত্রাণ নিতে এসে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৫০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫
  • ৮৪ টাইম ভিউ

গাজা উপত্যকায় চলমান তীব্র খাদ্য সংকটের মধ্যে ত্রাণ সংগ্রহে আসা সাধারণ মানুষের ওপর আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ড্রোন। মঙ্গলবার (২৪ জুন) সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, গাজার বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের আশপাশেই হামলাগুলো চালানো হয়। গাজার হাসপাতাল সূত্রে আল-জাজিরাকে জানানো হয়েছে, এসব হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত এবং গাজা জুড়ে আরও ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এপি’র খবরে বলা হয়, গাজার মধ্যাঞ্চলে ওয়াদি গাজার দক্ষিণে সালাহউদ্দিন সড়কের একটি ত্রাণকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় ২৫ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৬২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হামলার পর নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের কাছে আল-আউদা হাসপাতাল এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্সে আহত ও নিহতদের নেওয়া হয়। এইসব হাসপাতালে রক্তাক্ত মৃতদেহ ও হতাহতদের হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আল-জাজিরার হানি মাহমুদ গাজা সিটি থেকে জানিয়েছেন, ‘‘আল-শিফা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন অবস্থা হয়েছে যে অনেকেই চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন।’’

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘‘ত্রাণবাহী ট্রাকের দিকে যাওয়ার সময় আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়। আমরা পালাতে চাইলেও ট্যাংক আর ড্রোন থামেনি। এটা ছিল নির্মম হত্যাযজ্ঞ।’’

ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা ঘটনার তদন্ত করছে। সেনাদের দিকে সন্দেহভাজনদের এগিয়ে আসার প্রেক্ষিতে গুলি ছোড়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

ঘটনাগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত বিতর্কিত সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)। মে মাস থেকে তারা গাজায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘এটি একটি অপমানজনক, অমানবিক ব্যবস্থা। এটি একটি মৃত্যু-কূপ, যা বাঁচানোর চেয়ে বেশি জীবন কেড়ে নিচ্ছে।’’

জাতিসংঘ এ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, ‘‘এটি মানবিক প্রয়োজনে নয়, বরং ইসরায়েলি সামরিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে।’’

জিএইচএফ-এর কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে অন্তত ৪০০ জন নিহত ও ১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে ১৫টি মানবাধিকার সংগঠন এই বিতরণ ব্যবস্থার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গাজায় বেসরকারি সামরিক সহায়তা কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর