এবার নির্যাতিত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। রোববার ( ২১ সেপ্টেম্বর) গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোববার উত্তর গাজা থেকে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি দক্ষিণ ইসরায়েলের উন্মুক্ত স্থানে আঘাত হেনেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, লাখিশ ও আশদোদ এলাকায় কিছুক্ষণ আগে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর উত্তর গাজা থেকে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজা থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী, অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় আঘাত হানে। এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ঠিক কোন গোষ্ঠী গাজা থেকে এই হামলা চালিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তীব্র বিমান ও স্থল অভিযান চলার কারণে এই ধরনের হামলার ঘটনা অনেক কমে গেছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, রোববার ভোর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতভর ইসরায়েলের বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে কেঁপে উঠেছে পুরো গাজা উপত্যকা। বিমান হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলের স্থল অভিযানও আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধে ইসরায়েল গাজা দখলের লক্ষ্য নিয়ে ধারাবাহিক বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযান অবকাঠামো ধ্বংস, খাদ্য ও ওষুধের সংকট এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। শনিবার দিনের শেষ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজা উপত্যকাজুড়ে অন্তত ৯০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই গাজা শহরের বাসিন্দা।