শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

টাকার বিনিময়ে সরকারী গাছ কাটার অনুমতি পুলিশ-সাংবাদিক ও বনকর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৯ মার্চ, ২০২৫
  • ১৭৮ টাইম ভিউ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরকারী গাছ কাটার মৌখিক অনুমোদন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ, সাংবাদিক ও বনবিভাগের কর্মকর্তা সহ সংঘবদ্ধ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে গ্রেফতার ও মামলার হুমকি দিয়ে আরও টাকার দাবী করা হয়েছে।

এঘটনায় নড়িয়া থানার এস আই রাজিব হোসেন, বন কর্মকর্তা জামাল মিয়া ও স্থানীয় সাংবাদিক ইমন পেদা, জামাল হোসেন, জাহাঙ্গীর ছৈয়াল ও নুরে আলম জিকুর বিরুদ্ধে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে পুলিশ সুপার শরীয়তপুর এবং নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী রিতা আক্তার।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, উপজেলার ভুমখাড়া ইউনিয়নের মানাখান এলাকার বাসিন্দা ইতালি প্রবাসী মুসা জলিল তার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে বিল্ডিং তৈরীর কাজ করছিলেন। গত শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) বিল্ডিং এর সামনে সরকারী রাস্তার পাশে একটি চাম্বুল গাছ এর ডালা কর্তন করছিলেন। সে সময় সেখানে উপস্থিত হন বনকর্মকর্তা জামাল মিয়া ও অভিযুক্ত সংবাদকর্মীরা। পরবর্তীতে মামলার হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে ৩২ হাজার টাকা আদায় করে নেন অভিযুক্তরা। সেই সঙ্গে রাতের মধ্যে গাছ কেটে অন্যত্র সড়িয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়ে আসেন এবং অন্য কেউ এসে বাধা দিলে বিষয়টি তারা দেখবেন বলে জানান। পরবর্তীতে শুক্রবার মধ্য রাতে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান নড়িয়া থানার এস আই রাজিব হোসেন। সরকারী গাছ কাটার অভিযোগে সেখান থেকে বাড়ির কেয়ারটেকার রিতা আক্তার সহ কয়েকজন শ্রমিককে আটক করেন তিনি।

কিন্তু অভিযুক্ত সাংবাদিকদের মধ্যস্ততায় নগদ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দেন এস আই রাজিব। পরদিন শনিবার সকালে বন কর্মকর্তা জামাল ও অভিযুক্ত সাংবাদিকরা পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির কেয়ারটেকার রিতা আক্তারের থেকে আরও টাকা দাবী করেন। টাকা না দিলে মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখান। পরবর্তীতে রিতা আক্তার এ বিষয়ে আইনি সহযোগীতা চেয়ে পুলিশ সুপার শরীয়তপুর ও নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে রিতা আক্তার বলেন, ‘সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আমাদের কাছ থেকে ৩২ হাজার টাকা নিয়ে বন কর্মকর্তার মাধ্যমে আমাদের গাছ কাটার জন্য মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন এবং রাতের মধ্যে গাছ সড়িয়ে ফেলতে বলেছেন। কিন্তু রাতে পুলিশ এসে আমাদের ধরে নিয়ে যেতে চাইলে আমরা সাংবাদিক জাহাঙ্গীরকে কল দেই। তিনি আমাদের পুলিশকে ৮০ হাজার টাকা দিতে বলেন। আমরা টাকা দিলে পুলিশ আমাদের ছেড়ে দেয়। পরদিন বন বিভাগের জামাল ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আমাদের কাছে আরও টাকা দাবী করে। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের উঠিয়ে নিয়ে যাবে বলে ভয়ভীতি দেখান। আমি বাধ্য হয়ে এসপি স্যার ও ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ করেছি। ’

অভিযুক্ত বন কর্মকর্তা জামাল মিয়া বলেন, ‘সরকারী গাছ কাটা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সেখানে যাই। কিন্তু সাংবাদিক ইমন বিষয়টি তারা দেখবেন বলে আমাকে সেখান থেকে চলে আসতে বলেন। আমি কোন টাকা নেইনি। তবে ইউএনও স্যার অভিযোগ পেয়ে আমাকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছেন। আমি তদন্ত করছি।’

অভিযুক্ত এস আই রাজিব হোসেনকে থানায় গিয়ে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার তাকে কল দেয়া হলেও রিসিভ করেননি।

এব্যাপারে পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এব্যাপারে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত এস আইর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর