রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : আইনমন্ত্রী

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৬ টাইম ভিউ
দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে : আইনমন্ত্রী
ছবি-সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আমার কাছে তিনি (শেখ হাসিনা) একজন অপরাধী। আমাদের ট্রাইব্যুনালে তিনি সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী। আমাদের কাছে এটাই তার পরিচয়। তাকে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। রোববার (০৮ নভেম্বর) ঢাকায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করণীয়, আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা করছি। আপনারা দেখবেন, আমরা আইনিভাবে পদক্ষেপ নেব। এখানে আবেগের কোনো বিষয় নেই। বিষয়টি হলো, আমি আইন প্রয়োগ করব। আমরা যদি আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ না করি, তখন আপনারা বলবেন।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের আদালতে সরকার আইনি লড়াই করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি ভারত সরকারের বিষয়। তিনি আরও বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা তাদের কাছে অনুরোধ পাঠিয়েছি। তারা তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যেভাবে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, সেভাবেই নেব।

সরকার বন্দিবিনিময় চুক্তির কথা বললেও ভারতে শেখ হাসিনা বন্দী হিসেবে নেই। ভারত তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি বলছে। সে ক্ষেত্রে কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমার কাছে উনি অপরাধী। আমাদের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী। তারা (ভারত) কী বলছেন, তারা বললে তো হবে না! আমার রাষ্ট্রে ওপেন আদালতে বিচার হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা যা ইচ্ছা বলতে পারে, কিন্তু শুধু বললেই হবে না। আমার দেশে আদালতে তার উন্মুক্ত বিচার হয়েছে। আপনারা যখন এ প্রশ্ন তুলছেন, তখন আগে চিন্তা করুন, জুলাই বিপ্লবে এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত ও ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গু হয়েছে কি না।

বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, বিচার রুদ্ধদ্বার কক্ষে হয়েছে কি না এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। আইনমন্ত্রী বলেন, তাকে ফিরিয়ে আনতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যে অনুরোধ পাঠানো প্রয়োজন, আমরা তা পাঠিয়েছি। আমি সেটাই বলছি।

এর আগে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বেশি ক্ষতি করেছে।

এ প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ের সমালোচনা করে বলেন, ওই রায়ের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এটি আর্থিক দুর্নীতির ফল নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ফল।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে বিচারিক পর্যালোচনার নামে ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রয়োগের বিষয়েও নজর দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি বিচার বিভাগ চায়, যেখানে নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার হবে এবং তা জনগণের কাছে দৃশ্যমান হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর