শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরিশাসে ভারী কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অসত্য দাবি করে নিন্দা জামায়াতের জামায়াতকে রুখে দিতে না পারলে দেশে আরও একটি বিপর্যয় হবে: নুর আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের উসকানিতেই পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: রিজভী টেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহ, উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩৫

বাড়তি ডিজেল সরবরাহে বাংলাদেশের অনুরোধ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩৩ টাইম ভিউ
বাড়তি ডিজেল সরবরাহে বাংলাদেশের অনুরোধ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জ্বালানি মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকার অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে ভারত। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সোমবার (৯ মার্চ) দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, বাংলাদেশের অনুরোধটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করছে নয়াদিল্লি।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু এবং আমরা তার অগ্রগতির জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে চাই।” অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, “আমরা অনুরোধটি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছি।”

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের নিজস্ব জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি এবং নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের উৎপাদন সক্ষমতাও বিবেচনা করতে হবে। জ্বালানি খাতে চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারত থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করছে সরকার।

বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রোববার (৮ মার্চ) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী  আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টি উত্থাপন করেন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে স্বাভাবিক জ্বালানি মজুত বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হলে বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এটি সহায়ক হবে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত থেকে নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের ডিজেল সীমান্তবর্তী পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানি করে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং নুমালিগড় রিফাইনারির মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী ভারতের শিলিগুড়ি ডিপো থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি পরিবহন করা হয়।

২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর দুই পক্ষের মধ্যে ১৫ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে পাইপলাইনে ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করতে পারে। তবে কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল কেনা হচ্ছে, ফলে আমদানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে সোমবার এক বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে ঢাকা। তিনি বলেন, “আমরা তাদের কাছ থেকে ডিজেল চাই, আমরা পানি চাই।” নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্কের কথা বলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের প্রয়োজনের বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।”

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত ২০২৩ সালে বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার ৭১৮ টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ টন এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ২৪ হাজার ২১৬ টন ডিজেল সরবরাহ করেছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ভারত থেকে জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল এবং অকটেনও আমদানি করেছে।

বিপিসি-এর  এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকার ভারত ছাড়াও আরও কয়েকটি উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।Geographic Reference

তিনি বলেন, “তেলের কোনো ঘাটতি যাতে না হয়, সে জন্য আমরা ভারত ছাড়াও একাধিক উৎস থেকে আমদানির পরিকল্পনা করছি। বর্তমানে মজুতে কোনো ঘাটতি নেই। ভবিষ্যতের চাহিদা মাথায় রেখে এসব পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাই জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর