তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। তার সঙ্গেই বেশ কয়েকজন পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এবার অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে বিজেপি। তাই জোট সরকার গড়তে এনডিএর ওপর অনেকাংশে নির্ভর করতে হচ্ছে দলটির।
শরিক দলগুলোর কপালে কোন কোন মন্ত্রিত্ব যায়, সে দিকেই নজর রয়েছে সবার।
বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, অর্থ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিজেদের হাতেই রাখছে বিজেপি। অন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো শরিক দল চন্দ্রবাবু নায়ডুর টিডিপি, নীতীশ কুমারের জেডিইউ, চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপি (আর), একনাথ শিন্ডের শিবসেনা, এইচডি দেবগৌড়ার জেডিএস ও জয়ন্ত চৌধরির আরএলডির মধ্যে বণ্টন হতে পারে।
এনডিএর বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে মোদি রবিবার তার বাসভবনে চা চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
মনে করা হচ্ছে, মোদির ডাক পাওয়া সংসদ সদস্যদের প্রায় প্রত্যেকেই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন।
আরো জানা যাচ্ছে, বিদায়ী মন্ত্রিসভার মতোই নতুন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন বিজেপির রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, নির্মলা সীতারমন, পীযূষ গয়াল, এস জয়শঙ্কর।
চা চক্রে হাজির ছিলেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। যা দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছে, সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ফের তাকে মন্ত্রিসভায় আনা হচ্ছে।
এ ছাড়া মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী—মধ্য প্রদেশের শিবরাজ সিং চৌহান, হরিয়ানার মনোহরলাল খট্টর ও কর্ণাটকের বাসবরাজ বোম্মাই। তিনজনই শনিবারের একটি চা চক্রে হাজির ছিলেন।
চন্দ্রবাবুর দল থেকে পূর্ণমন্ত্রী হতে পারেন কে রামমোহন নায়ডু ও চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি। নীতীশের দল থেকে মন্ত্রী হতে পারেন লাল্লন সিং ও সঞ্জয় ঝায়ের মধ্যে যেকোনো একজন। মন্ত্রী হতে পারেন জেডিইউর রাজ্যসভার সংসদ সদস্য রামনাথ ঠাকুর।
এলজেপি থেকে মন্ত্রী হতে পারেন প্রয়াত রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে চিরাগ।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বিজেপির সূত্রকে উদ্ধৃত করে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একজন পূর্ণমন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর পদ পেতে চলেছে চন্দ্রবাবুর দল। পাশাপাশি শিবসেনার (শিন্ডে) পক্ষ থেকে পূর্ণমন্ত্রী হতে চলেছেন প্রতাপরাও জাধব।
জেডিএস থেকে মন্ত্রী হতে পারেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়ার ছেলে এইচ ডি কুমারস্বামী। এ ছাড়াও এনডিএর ছোট শরিক দলগুলোর মধ্যে হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চার (হাম) জিতনরাম মাঝিঁ, রিপাবলিক পার্টি অব ইন্ডিয়ার (আরপিআই-এ) রামদাস অঠওয়ালে, আজসুর চন্দ্রশেখর চৌধুরী পূর্ণমন্ত্রী হতে পারেন।
বিজেপির যারা এই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, কেরালার একমাত্র পদ্ম সংসদ সদস্য সুরেশ গোপী, নিতিন গড়কড়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রহ্লাদ জোশী, অশ্বিনী বৈষ্ণব, জ্যোতিরাদিত্য শিন্ডে, কিরেন রিজিজু, গিরিরাজ সিং, জিতিন প্রসাদ।
এবার কোয়েম্বত্তূর কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ে হেরে গেলেও মোদি মন্ত্রিসভার সদস্য হতে পারেন তামিলনাড়ুর বিজেপি সভাপতি কে আন্নামালাই। তবে তাকে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। বিদায়ী মোদি মন্ত্রিসভায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের চারজন। নিশীথ প্রামাণিক (স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী), শান্তনু ঠাকুর (জাহাজ প্রতিমন্ত্রী), জন বার্লা (সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী) ও সুভাষ সরকার (শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী)।
এবার অবশ্য বিজেপির আসনসংখ্যা ১৮ থেকে কমে ১২ হয়েছে। হেরেছেন সুভাষ, নিশীথ। আর বার্লা টিকিটই পাননি। মন্ত্রিসভাতেও কমছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সংসদ সদস্য সুকান্ত মজুমদার ও বনগাঁর সংসদ সদস্য শান্তনু ঠাকুর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। ঘটনাচক্রে, দুজনই রবিবার মোদির বাসভবনে হওয়া চা চক্রে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা