শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

মামলা না নেওয়ায় ওসিকে চাকরি ছাড়তে বললেন পাবলিক প্রসিকিউটর

প্রতিনিধি :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫
  • ১০৬ টাইম ভিউ

মামলা না নেওয়ায় বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলেছেন জামালপুর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আনিসুজ্জামান গামা।বৃহস্পতিবার (১ মে) রাতে এ বিষয়ে তাদের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। আনিসুজ্জামান বকশীগঞ্জ পৌর বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আশিকুর রহমান তুলনকে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম বাদশা মিয়া মারধর করেন। বিষয়টি নিয়ে আশিকুর থানায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা মীমাংসা করার কথা বলে থানার ওসিকে মামলা না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে থানায় মামলা না নেওয়ায় মোবাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আনিসুজ্জামান গামা। এক পর্যায়ে তিনি ওসিকে স্বৈরাচারের দোসর বলে চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। জবাবে ওসি শাকের পিপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের লোকদের বিএনপির বানিয়ে জামিন দেওয়ার অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পর গত ২৯ এপ্রিল আশিকুর বাদী হয়ে নুরুল ইসলামসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে বকশীগঞ্জ থানায় মামলার আবেদন করলে মামলা নেন ওসি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওসির সঙ্গে পিপির ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের কথোপকথনে শোনা যায়-

‘আনিসুজ্জামান গামা: উনারে তো আমি মানবো না। মিল্লাত সাহেব (কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ) মামলা নেওয়ার না করার কে? উনি না করবে কেন? উনি মার খাইছে?

ওসি শাকের: আপনার এটা দলীয় বিষয়। দুই জনই দলের লোক, আপনি মামলা নেওয়ার জন্য চাপ দিতাছেন।

আনিসুজ্জামান: দলীয় কোনো বিষয় না। আর মিল্লাত সাহেব এখানে কোন বিষয় না। আপনার কাছে মামলা দিছি মামলা নিবেন।

ওসি: আচ্ছা মামলা দিছেন, মামলা নিব। উনি না করলে আমি কি উনার কাছে না শুইনা মামলা নিব।

আনিসুজ্জামান: তাইলে তো আপনি স্বৈরাচারের দোসর। একজনে না করবে আর আপনি মামলা নিবেন না। খালেদা জিয়া না করবে আপনি মামলা নিবেন না।

ওসি: মামলা নেওয়ার মতো তো ঘটনা না এইডা। ৩২৩ এর ঘটনা, আপনি তো আইন ভালোই জানেন, আপনি পিপি একজন।

আনিসুজ্জামান: ৩২৩ এর ঘটনা, ২৩ শেই মামলা নিবেন।

ওসি: ২৩ শে আবার মামলা কেমনে নেয়।

আনিসুজ্জামান: আপনি নিবেন না আপনি না করবেন।

ওসি: আপনার এত ক্ষমতা, আপনি কোর্ট থেকে মামলা করায়ে দেন অসুবিধা কি?

আনিসুজ্জামান: কোর্ট থেকে (মামলা) করবে তাহলে আপনি বেতন নেন কেন? আপনি রিজাইন দেন।

ওসি: আপনিও রিজাইন দেন, আমিও রিজাইন দেব, আপনিও রিজাইন দেন। আপনি সরকারি কাজ করতাছেন, আপনি বিএনপির নাম ভাঙাইয়া মিয়া চলতাছেন, হেই মিয়া আপনি আমারে হুমকি দিয়েন না। আমি আপনারে ডরাই না, আপনি কেঠা, হেই মিয়া আপনে কে? আপনারে আমি ভয় পাই? আওয়ামী লীগের লোকদের বিএনপি বানায়ে জামিন দেওয়ার ব্যবস্থা করতাছেন।

আনিসুজ্জামান: আমি বিএনপির নাম ভাঙাইয়া না আমি সরকারি পিপি। আমি বিএনপির পিপি না, বিএনপির গোলাম না। আপনি রেকর্ড করে মিল্লাতরে দেন, রাখলাম।’

এ বিষয়ে আনিসুজ্জামান গামা বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে কটূক্তির প্রতিবাদ করায় তুলন নামের একজনকে মারধর করে বাদশা ও তার লোকজন। ওসি নিজে আমাকে ফোন করে মামলা লিখে দিতে বলেন। মামলা লিখে দেওয়ার পরও মামলা নেয়নি ওসি। সে মামলা নিবে না তাহলে আমাকে দিয়ে মামলা কেন লিখিয়ে নেবেন? এজন্য তাকে চাকরি রিজাইন দিতে বলেছি। মামলা নেওয়া যাবে না বলে ওসি পরে আবার মামলা কীভাবে নিলেন? আমি আসামিদের জামিন দেওয়ার কেউ না। এগুলো ভুয়া কথা। ওসি এজহার নামীয় আসামিদের না গ্রেপ্তার করে শুধু সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান। সে নিজেই কল রেকর্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে।’

এদিকে  ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদকের মধ্যে একটা ঝামেলা হওয়ায় থানায় মামলা করতে আসেন। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতারা মীমাংসা করার কথা জানান। এ বিষয়ে জজ কোর্টের পিপি মোবাইলে কল দিয়ে আমাকে বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন ও চাকরি রিজাইন দিতে বলেন। ইতোপূর্বেও পিপি আনিসুজ্জামান বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক মামলা নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন। কে বা কারা কল রেকর্ড করছে তা জানি না।’

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর