শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

লস অ্যাঞ্জেলেস ট্রাজেডি: ‘কিছুই অবশিষ্ট নেই, আছে ছাই-ভষ্ম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৯৮ টাইম ভিউ

চার দিনের আগুনে লস অ্যাঞ্জেলেস রীতিমত ভষ্ম হয়ে গেছে; আমার বাড়িটার আর অস্তিত্ব নেই; জ্বলন্ত অঙ্গারের স্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা কাঠামো।মঙ্গলবার সকালে যেখানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত সেখান থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে প্যালিসেডসে ছিল আমার বাড়ি। এখন শহরের উত্তরে লা ক্রিসেন্টায় এক বন্ধুর বাড়িতে উঠেছি। ভেবেছিলাম এখানে অন্তত নিরাপদ! কিন্তু শহর জুড়ে এখনও ছয়টি জায়গায় আগুনের লেলিহান শিখা। এখন আর কোথাও নিরাপদ বোধ করছি না। আমিসহ ১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি লোককে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

আমার মতো অনেকেই পালিয়ে ভেবেছিল তাদের হয়তো আর জায়গা পরিবর্তন করতে হবে না; কিন্ত কে জানতো, আবারও ছুটতে হয়েছে আগুনের গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। ব্যাগগুলো দরজার কাছেই গুছিয়ে রেখেছিলাম, কখন না আবার অ্যালার্ম বেজে ওঠে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো অ্যালার্ম বেজে উঠলো। বৃহস্পতিবার বিকেলে যে ভয়ে ছিলাম কখন আবার অ্যালার্ম বেজে ওঠে, তা যে এত দ্রুত বাস্তব হয়ে যাবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারিনি।

আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে গাড়ির কাছে ছুটে গেলাম। বুঝতে চাইলাম গাড়িতে পর্যাপ্ত গ্যাস আছে কিনা; গ্যাস প্রায় শেষ। আমার সঙ্গীকে একটা উপায় বের করার জন্য পাঠিয়ে দিলাম। চারটি স্টেশন ঘুরে অবশেষে সে গ্যাস পেল। অথচ বাস্তবতা হলো ওই অ্যালার্ম বেজে ওঠেছিল ভুলবশত; এটা মানা যায়?

একজন জলবায়ু বিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে, বিরূপ আবহাওয়ায়ও বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন করতে আমি মোটামুটি অভ্যস্ত। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মালিবুর আগুন থেকে পালিয়ে আসা বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। আজ আমি নিজেই নিজের গল্প বলছি। প্যালিসেডস আগুনকে ইতিমধ্যেই একটি ঐতিহাসিক দাবানল বলা হয়েছে। এবং এই স্মৃতি চিরকাল আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে। আমার প্রতিবেশী, আমার ঘরবাড়ি, এই দাবানল কেড়ে নিয়েছে।

৭ জানুয়ারি সকালে যখন প্রথম আগুনের সূত্রপাত তখনও কিন্তু সেটি প্যালিসেডস গ্রাম থেকে দেখা যাচ্ছিলো। আমি সান্তা মনিকা পাহাড়ের ধারে ছোট ছোট আগুনের কুণ্ডলি দেখতে পাচ্ছিলাম। নীল আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিলো কালো ধোঁয়া। স্থানীয়রা সেই ছবি তুলছিলো।

এক ঘণ্টা পর, আগুনের লেলিহান শিখা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসে। দেখলাম মুহূর্তের মধ্যে আগুন ঘরবাড়ি গ্রাস করতে শুরু করেছে, আকাশে উড়ছে ধোঁয়া। দুই দিন আগেই সান্তা আনার বাতাসের সতর্কতা নিয়ে আমি বেশ উদ্বিগ্ন ছিলাম, ঘণ্টায় ১২৯ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিলো। এই বাতাসের বেগ এবং উষ্ণতাই আগুন দ্রুত এবং তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ার জন্য ভূমিকা রেখেছে বলে আমার ধারণা।

আমি বুঝতে পারছিলাম যে বাতাস কত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে; শহর জুড়ে জ্বলন্ত অঙ্গার এবং ধোঁয়া উড়ছে। আগুন লাফিয়ে লাফিয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দাবানল ঘিরে ধরলো পুরো এলাকা।

সত্যিই ভয়াবহ ছিল সে দৃশ্য। একটা উজ্জ্বল লাল সূর্য আমাদের উপর কমলা রঙের আভা ফেলছিল, আর ছাইগুলো উড়ছিল যেন তুষারপাতের মতো। আমি দৌড়ে বাড়ি ফিরে আসি। ভাবতে থাকি এখান থেকে যে করেই হোক সরে যেতে হবে। বুঝতে পারলাম, ওই মুহূর্তে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই, কারণ একমাত্র রাস্তা ‘সানসেট ব্লাভডে’ তখন প্রচণ্ড মাত্রার জ্যাম।

প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র- পাসপোর্ট, জন্ম সনদপত্র গুছিয়ে নিলাম, এবং এরপর যখন মনে হলো আরও কিছুটা সময় আছে, তখন বাড়ির সামনের উঠানে গিয়ে দাঁড়ালাম। অবশেষে যখন বলা হল যে পুরো প্যালিসেডের বাসিন্দাদের বাধ্যতামূলকভাবে সরে যেতে হবে তখন আমিও আর থাকার সাহস করলাম না। আগুন আমার বাড়ির খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলো ততক্ষণে।

আশ্চার্য্যজনক হলেও সত্যি, ভয়াবহ সেই দিনটিতে আমাদেরকে সরে যাওয়ার বিষয়ে বা আগুন লাগার বিষয়ে কোনো সতর্কতা আমার কাছে আসেনি। এমনকি আমার সঙ্গীও পায়নি। যতটুকু জেনেছি প্রতিবেশীদের মাধ্যমে, তারাই আমাদের জানিয়েছিল।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর