খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ। পরিবারের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন খালিদ। তার ইচ্ছা ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। আন্তঃস্কুল ক্রিকেট খেলায় চ্যাম্পিয়নও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশের ছোড়া বুলেটে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। কথাগুলো শহীদ সাইফুল্লাহর বাবা কামরুল হাসানের। খবর বাসস
তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড মিশুক ছিল খালিদ। খালিদ আমাদের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। আন্তঃস্কুল ক্রিকেট খেলায় সে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ক্রিকেট খেলা তার অনেক পছন্দের ছিল। ভালো ব্যাটিং করত। তার ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে ক্রিকেটার হওয়ার, কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম শহীদ খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ (১৭)। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজে একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে আজিমপুর সরকারি আবাসিক এলাকার ৭ নং ভবনের সামনে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে খালিদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ ২০০৮ সালের ২৯ মে রাজধানীর লালবাগের আমলিগোলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কামরুল হাসান (৪৮) মাদ্রাসার শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি হোমিও চিকিৎসকও।
বড় ছেলে হারানোর বেদনায় শোকে পাথর হয়ে গেছেন বাবা। তার মুখে তেমন কোনো কথা নেই। সাড়ে ৩ মাস চলে গেলেও নিজেকে স্বাভাবিক করতে পারেননি তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একই অবস্থা।
কামরুল হাসান জানান, আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই খালিদ সক্রিয় ছিল। কিন্তু সেদিন আজিমপুর ছাপড়া মসজিদে আসরের নামাজ পড়তে লালবাগের আমলিগোলার বাসা থেকে বের হয়েছিলেন খালিদ। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নামাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এসময় আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে আজিমপুর কোয়ার্টারে ঢুকে গুলি চালায় পুলিশ। খালিদ গুলিবিদ্ধ হয়ে। শটগানের অন্তত ৭০টি ছররা গুলি লাগে খালিদের শরীরে। অথচ এলাকাটি সংরক্ষিত।