ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে ইচ্ছুক আনসারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিয়োগ না দিয়ে বেশি টাকায় ভিন্ন উপজেলা থেকে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু আনসার নিয়োগ কর্তৃপক্ষ বলছেন, স্বচ্ছতার মাধ্যমে কেবলমাত্র প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা সবাই ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ে আনসার ও ভিডিপি দলের কেউ কমান্ডার কেউবা সহকারী কমান্ডার। নাম প্রকাশে না করার শর্তে জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ১জন করে কমান্ডার, সহকারী কমান্ডার এবং ১জন করে মহিলা ও পুরুষ সদস্যসহ চারজনের একটি দল রয়েছে। এছাড়াও নান্দাইল উপজেলায় প্রায় ৪শ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও ভিডিপি সদস্য রয়েছেন।
গত শুক্রবার (৩১ শে) আনসার ভিডিপির নির্বাচনী ডিউটির বাছাই করেন পার্শ্ববর্তী উপজেলার আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সুশান্ত। কিন্তু তিনি তার উপজেলা থেকে আশা ৬শত জনকে বাছাই করেন নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করার জন্য।
আগামী ৫ই জুন ৪র্থ ধাপে নান্দাইল উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এজন্য ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২৬টি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য ১২ থেকে ১৫ জন করে মোট ১৮২৩ জন আনসার সদস্যের প্রয়োজন।
নান্দাইল পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের জোসনা বেগম জানান, এমপি ইলেকশনে আমার কাছ থেকে আটজনের টাকা নিয়েছিলেন নুরুন্নাহার আপা ও নাসিমা আপা। তখন চারজনকে ডিউটিতে দিয়েছেন। এবং বাকি চারজনকে উপজেলা নির্বাচনে ডিউটি দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এখন তাদের আইডি কার্ড জমা দিতে আসলে নাসিমা আপা নিবেন না বলে দেন। টাকা চাইলে তিনি বলেন আমি কোন টাকা নেই নাই। আমি টাকা দিব কেন? নির্বাচনের ডিউটি করলে কোন টাকা লাগেনা।
কিন্তু গত ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে আনসার সদস্য হিসেবে নির্বাচনী ডিউটি করতে আগ্রহীদের কাছ থেকে ১০০০/- (এক হাজার) করে টাকা নিলেও ডিউটি তালিকায় অনেকের নাম না থাকায় টাকা ফেরত দেওয়া তথ্য উঠে এসেছে।
উপজেলা আনসার ভিডিপি (ইউ আই) মহিলা প্রশিক্ষিকা নুরুন্নাহার কে মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
নান্দাইল উপজেলা আনসার ভিডিপির কর্মকর্তা নাসিমা বেগম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এসব কিছু জানি না। সব কথার এক কথা আমার এখন সময় নাই।