সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন

খুলনায় এবার দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার, ১২ দিনে সাত খুন

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩ টাইম ভিউ
খুলনায় এবার দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার, ১২ দিনে সাত খুন
ছবি- সংগৃহীত

খুলনায় এবার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই যুবকের মরদেহ পাওয়া গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ নিয়ে গত ১২ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলায় সাতটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন খুলনা মহানগর তাঁতী দলের এক নেতা। এ ছাড়া একই সময়ে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন যুবদলের বর্তমান ও সাবেক তিন নেতা। সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত (১ নভেম্বর) খুলনা মহানগর ও জেলায় গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্নভাবে ৭৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে।খুলনার রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদীর চরে আজ দুপুরে স্থানীয় লোকজন প্রথমে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ভাটার সময় পানি কমে গেলে একই স্থানে আরও একটি মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, নিহত দুজনের একজন মেহেদী হাসান (৩৫)। তিনি রূপসার রাজাপুর এলাকার আবদুল্লাহর ছেলে। একসময় জেলখানা ঘাটের মাঝি ছিলেন তিনি। নিহত অন্যজনের নাম রেজাউল করিম (৩০)।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খুলনার অপরাধজগতে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর গড়া সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন মেহেদী ও রেজাউল। দুজনের শরীরেই গুলির চিহ্ন রয়েছে।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান গণমাধ্যমকে বলেন, মেহেদী ও রেজাউল দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেহেদী চোখের ওপর ভ্রুর পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। আর রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। হত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুজনই সন্ত্রাসী বাহিনী ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

মেহেদীর মরদেহ নদীর চরে পড়ে থাকার খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসেন তার বাবা আবদুল্লাহ। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মেহেদী আলাদা থাকত। ছেলের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না।

এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় খুলনা নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খুন হন খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির। তাকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। আর শনিবার দিবাগত রাতে নগরের লবণচরা এলাকার সড়ক থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে মরদেহ ফেলে যায়।

২৬ অক্টোবর রাত থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত খুলনায় গুলির তিনটি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে গুলিতে আহত হন যুবদলের সাবেক দুই নেতা। আর খুলনা নগরে গুলিবিদ্ধ হন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

২৫ অক্টোবর নগরের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ অক্টোবর নগরের দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা এলাকায় ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু নামের এক কলেজশিক্ষককে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন সকালে তেরখাদা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে রামিম বিশ্বাস নামের যুবদলের এক নেতা আহত হন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ রয়েছে। এ ছাড়া ২২ অক্টোবর সকালে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর নগরের জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় এক গৃহবধূকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ রয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর