শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরিশাসে ভারী কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অসত্য দাবি করে নিন্দা জামায়াতের জামায়াতকে রুখে দিতে না পারলে দেশে আরও একটি বিপর্যয় হবে: নুর আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের উসকানিতেই পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: রিজভী টেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহ, উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩৫

আমাদের বাড়িতে ঈদও উদযাপন করা হয়: নরেন্দ্র মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৫ মে, ২০২৪
  • ৮৪ টাইম ভিউ

‌মুসলমানদের ‘‘অনুপ্রবেশকারী’’ আর ‘‘তাদের বেশি সন্তান’’ নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি বলেছেন, ‘‘এই ইস্যুটি মুসলমানদের নিয়ে নয়। আমার বাড়িতে, আমার চারপাশে সব মুসলিম পরিবার রয়েছে। আমাদের বাড়িতে ঈদও উদযাপন করা হয়। অন্যান্য উৎসব আমাদের বাড়িতে পালন করা হয়। ঈদের দিন আমাদের বাড়িতে খাবার রান্না হয় না। সব মুসলিম পরিবার থেকে আমার বাড়িতে খাবার আসে।”

মঙ্গলবার দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে মোদি বলেছেন, তিনি কেবল মুসলমানদের নিয়ে কথা বলেননি। বরং প্রত্যেক দরিদ্র পরিবার নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘‘তিনি হিন্দু-মুসলমান রাজনীতি করেন না। যেদিন করবেন, সেদিনই জনজীবনে থাকার অযোগ্য হবেন তিনি।’’ ওই সাক্ষাৎকারে মোদি বলেছেন, তিনি মুসলমানদের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বাজার করেন না। আমি ভোট ব্যাংকের জন্য কাজ করি না। আমি সবকা সাথ, সবকা বিকাশে বিশ্বাস করি।

‘‘আমি অবাক। আপনাকে কে বলেছে, যখনই কেউ বেশি সন্তান নিয়ে কথা বলে, তখন তার লক্ষ্য মুসলমান বলে বুঝতে হবে? মুসলমানদের প্রতি এত অবিচার কেন? দরিদ্র পরিবারেও এই অবস্থা হয়। যেখানে দারিদ্র্য আছে, সেখানে শিশুর সংখ্যা বেশি। তা যে সামাজিক বৃত্তই হোক না কেন। আমি হিন্দু বা মুসলিম কোনোটাই উল্লেখ করিনি। আমি বলেছি, একজনের যতজন বাচ্চা প্রতিপালন করতে পারবে, ঠিক ততজন বাচ্চাই নেওয়া উচিত। এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেবেন না যেখানে সরকারকে আপনার সন্তানদের দায়িত্ব নিতে হয়।’’

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন গোধরা দাঙ্গা-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ২০০২ সালের (গোধরা দাঙ্গা) পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের মধ্যে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিয়েছে বিরোধীরা।

তিনি বলেন, ‘‘এই ইস্যুটি মুসলমানদের নিয়ে নয়। মোদির প্রতি মুসলমানরা যতই সমর্থনকারী হোক না কেন, তাদের মনে একটা চিন্তা কাজ করে, যা তাদের নির্দেশ দেয়, এটা করুন, সেটা করুন। আমার বাড়িতে, আমার চারপাশে সব মুসলিম পরিবার রয়েছে। আমাদের বাড়িতে ঈদও উদযাপন করা হয়। অন্যান্য উৎসব আমাদের বাড়িতে পালন করা হয়। ঈদের দিন আমাদের বাড়িতে খাবার রান্না হয় না। সব মুসলিম পরিবার থেকে আমার বাড়িতে খাবার আসে। মহররম শুরু হলে তাজিয়ার নিচে হাঁটতে হবে বলে আমাদের শেখানো হয়েছিল। আমি সেই পৃথিবীতে বড় হয়েছি। আজও আমার অনেক মুসলমান বন্ধু রয়েছে। ২০০২ (গোধরা দাঙ্গা) এর পর আমার ভাবমূর্তি কলঙ্কিত হয়েছে।’’

দেশটিতে চলমান লোকসভা নির্বাচনে মুসলিমরা তাকে ভোট দেবে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘দেশের মানুষ আমাকে ভোট দেবে। আমি যেদিন হিন্দু-মুসলিম করে দিনের শুরু করবো, সেদিন আমি জনজীবনে থাকার যোগ্যতা হারাবো। আমি হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করবো না। এটা আমার অঙ্গীকার।’’

এর আগে, দেশটির রাজস্থান প্রদেশে এক সমাবেশে নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করে বলেন, কংগ্রেস মানুষের সোনা ও সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে ‘‘যাদের বেশি সন্তান আছে’’ তাদের মাঝে বিতরণ করতে চায়। পরে ওই ভাষণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে কংগ্রেসসহ দেশটির অন্যান্য কয়েকটি বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানায়। এই বিষয়ে মোদি বলেছেন, কংগ্রেস একটি জরিপ চালাবে এবং সেই অনুযায়ী এমনকি নারীদের মঙ্গলসূত্রও ছাড়বে না তারা।

মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের বারাণসী লোকসভা আসন থেকে নিজের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশটির ক্ষমতায় টানা তৃতীয় মেয়াদে আসার জন্য ওই আসন থেকে লড়ছেন তিনি। সেখানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পাবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছেন ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: এনডিটিভি

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর