শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অসত্য দাবি করে নিন্দা জামায়াতের জামায়াতকে রুখে দিতে না পারলে দেশে আরও একটি বিপর্যয় হবে: নুর আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের উসকানিতেই পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: রিজভী টেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহ, উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩৫ কলেজের অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ইইউ ভোটের পর জার্মান চ্যান্সেলরের জোটের ভবিষ্যৎকী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪
  • ১০৩ টাইম ভিউ

ইইউ ভোটে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দলগুলো খারাপ ফল করেছে। আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের দাবি উঠেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর দল ইউরোপীয় নির্বাচনে খারাপ ফল করার পরই তিনি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জার্মানিতেও চ্যান্সেলর শোলজের ওপর আগাম নির্বাচন করানোর জন্য চাপ বাড়ছে।

তার দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটের (এসপিডি) ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩.৯ শতাংশে। তাদের শরিক দল গ্রিনদের ভোট কমে হয়েছে ১১.৯ শতাংশ এবং এফপিডির ৫.২ শতাংশ।
বেশ কিছুদিন ধরে সমীক্ষাগুলোর ফলে দেখা যাচ্ছিল, এক-তৃতীয়াংশ মানুষ জার্মান ফেডারেল সরকারের কাজে খুশি নয়। তাদের পোল রেটিং সমানে কমছে।

ইইউ নির্বাচনেও ফল প্রত্যাশার থেকেও খারাপ হয়েছে। দক্ষিণপন্থী এএফডি ১৫.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তাদের সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
ইইউ নির্বাচনে জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে সিডিইউ/সিএসইউ। তাদের পাওয়া ভোটের পরিমাণ ৩০ শতাংশ।

সিডিইউর কৌশল ছিল, ইইউ পার্লামেন্টের এই ভোটকে ক্ষমতাসীন জোটের বিরুদ্ধে ভোটে পরিণত করা। ক্ষমতাসীন জোটের তিন দলের রঙের জন্য তাদের বলা হয় ‘ট্রাফিক লাইট কোয়ালিশন’। সিডিইউর স্লোগান ছিল, ‘সিডিইউর পক্ষে ভোট দেওয়ার আরেকটা কারণ ট্রাফিক লাইট কোয়ালিশন’।
ফ্রান্সের মতো আগাম নির্বাচন?
এদিকে সিডিইউ নেতা ফ্রিডরিশ মার্ৎস ও সিএসইউ নেতা মার্কুস জুইডা দাবি করেছেন, জার্মানিতেও আগাম নির্বাচন করা হোক। কারণ ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছেন।

 

তারা এই জোটের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। তাদের মতে, যদি এর পরও জোট সরকারে থাকে, তাহলে মানুষ খুবই হতাশ হবেন।
সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, জোটের পক্ষ থেকে এক সেকেন্ডের জন্যও আগাম নির্বাচনের কথা ভাবা হচ্ছে না। জার্মানিতে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৫ সালে। এই সময়ের মধ্যে তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে চান।

ফ্রান্সের পরিস্থিতির সঙ্গে জার্মানির পরিস্থিতির ফারাক আছে। ফ্রান্সে ম্যাখোঁ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফল যা-ই হোক না কেন, তিনি পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। কিন্তু জার্মানিতে আগামী নির্বাচনে হেরে গেলে শোলজকে ক্ষমতা হারাতে হবে। ফরাসি প্রেসিডেন্টকে দেশের মানুষ নির্বাচিত করে। জার্মান চ্যান্সেলরকে নির্বাচিত করেন জিতে আসা এমপিরা।

নতুন নির্বাচন মানে এসপিডি, গ্রিন, এফপিডির ঝুঁকি
রাজনৈতিক স্থিরতার স্বার্থে জার্মানিতে বুন্ডেস্টাগ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সহজ নয়। এটা তখনই সম্ভব, যদি চ্যান্সেলর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপিরা তাকে যদি সমর্থন না করে। তখন শোলজ প্রেসিডেন্টকে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের কথা বলবেন।

জোটের শরিক দলগুলো এর বিরুদ্ধে। এর ফলে শুধু যে ক্ষমতা হারানোর ভয় থাকছে তাই নয়, অনেক এমপি হয়তো আবার নির্বাচিত হয়ে আসবেন না—এমন সম্ভাবনাও থাকছে।

এখানেই প্রশ্নটা উঠছে, ক্ষমতা হারানোর ভয়ের ফলে কি তারা জোটের সমস্যা ও দ্বন্দ্ব মেটাতে পারবেন? বেশ কিছুদিন হলো, এই তিন দলের মধ্যে সম্পর্ক ভালো নয়। তাদের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই রাজনৈতিক বিরোধ হয়। দুই বাম-মনোভাবাপন্ন দলের সঙ্গে আর্থিক উদারবাদী দলের রাজনৈতিক স্বার্থ একেবারে আলাদা।

২০২৫ সালের বাজেট
এ বিষয়ে জোটের মধ্যে বড় একটা বিরোধ আগামী দিনে হতে পারে। আগামী ৩ জুলাই সরকার ২০২৫ সালের বাজেটের খসড়া পেশ করবে। সরকার যা প্রজেক্ট করতে চাইছে এবং দলগুলো যে পরিমাণ অর্থ খরচ করতে চাইছে, তার মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। এই বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী কিছু বলেননি। কিন্তু মনে করা হচ্ছে, এই ফারাক আড়াই থেকে পাঁচ হাজার কোটি ইউরোর।

অর্থমন্ত্রী পরিস্থিতির মোকাবেলায় সামাজিক ক্ষেত্রে খরচ কমাতে চাইবেন। তিনি বেশি ঋণ নেয়ার পক্ষপাতী নন। কিন্তু এসপিডি ও গ্রিনদের অনেকে চান, ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে যে ফাঁকগুলো আছে, তা বন্ধ করে, নতুন করে ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে।

জোটের ভবিষ্যৎ
এসপিডি নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, সামাজিক ক্ষেত্রে কোনোভাবে তারা খরচ ছাঁটাই মেনে নেবেন না। এ ধরনের বাজেট মানার কোনো সম্ভাবনাই নেই। দলের পক্ষ থেকে থেকে এ কথা ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, শোলজ কি এই কাজ করতে পারবেন?

শোলজ এত দিন মধ্যপন্থা নিয়ে চলার চেষ্টা করেছেন। ইউরোপীয় নির্বাচনে তিনি নিজেকে ‘চ্যান্সেলর অব পিস’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তা কাজে আসেনি।

ইউরোপীয় নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর শোলজকে খুব বিষণ্ন বা চিন্তিত দেখাচ্ছে না। নির্বাচনের রাতে তিনি দলের সদর দপ্তরে এমনভাবে হেঁটেছেন, যা দেখে মনে হয়েছে, তার কোনো চিন্তা নেই। শান্তভাবে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে সেলফি তুলেছেন। গত তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে বারবার দেখা গেছে, হার হলে বা ধাক্কা লাগলে তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি বিচলিত হন না।

তবে এফডিপি নেতা লিন্ডনারও আপস করার কোনো ইচ্ছে দেখাচ্ছেন না। তাদের ভোট কমেছে। কিন্তু তার পরও তারা বলছে, মানুষ স্থিতিশীলতার পক্ষে। গ্রিন পার্টির নেতারা বলতে শুরু করেছেন, দলীয় স্বার্থের আগে দেশের স্বার্থকে রাখতে হবে। বাজেট নিয়ে প্রকাশ্যে লড়াই করাটা ঠিক হবে না।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর