বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

ইউএনওকে ফুল না দেওয়ায় শিক্ষককে মারধর

অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪
  • ৮৭ টাইম ভিউ

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিদ্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসার পর ফুল না দেওয়ায় এক শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে। মারধরে আহত শিক্ষক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল শনিবার (৮ জুন) বিকেলে কাপাসিয়ার কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (৪৪) কাপাসিয়া উপজেলার কপালেশ্বর গ্রামের ফাইজ উদ্দিন পালোয়ানের ছেলে।

তিনি কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক।
জানা যায়, গতকাল শনিবার কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভা ছিল। সভাপতি হিসেবে সভায় যোগদান করেন কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম লুৎফর রহমান। এ সময় ইউএনওকে ফুল দেয়নি বলে শিক্ষক মোজাম্মেল হককে মারধর করেন ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য বিল্লাল হোসেন।

পরে তাকে কাপাসিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত শিক্ষক মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, গতকাল শনিবার দুপুরের পর বিদ্যালয়ে ইউএনওর উপস্থিতিতে ম্যানেজিং কমিটি মিটিংয়ে বসে। মিটিংয়ে বিল্লাল হোসেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আফজাল হোসাইনের প্রতি সভাপতি ইউএনও স্যারকে ফুল না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন। আমি ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের শান্ত হতে বলি।

তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে বিল্লাল হোসেন আমার নাক ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি দেয়। এ ছাড়া অন্যরাও আমাকে পেছন দিক থেকে মারধর করতে থাকে।
কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আফজাল হোসাইন জানান, স্কুল অভিভাবক সদস্য বিল্লাল হোসেন আমাকে বলেছিল ইএনওর জন্য ফুলের ব্যবস্থা করতে। আমি বলেছি- ইউএনও স্যারকে উপজেলায় ফুল দেওয়া হয়েছে।

এরপরও ফুল দিতে চাপ দিলে আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। গতকাল মিটিংয়ের সময় এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সামনে বিল্লাল হোসেন আমাকে গালি দিলে মোজাম্মেল হক প্রতিবাদ করেন। তখন বিল্লাল হোসেন, সাবেক সভাপতি ও তার লোকজন শিক্ষককে মেরে আহত করে। শিক্ষককে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ কে এম লুৎফর রহমান বলেন, আমি বিদ্যালয়ের সভাপতি। আামার সামনে শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। সভাপতি হিসেবে আমি ফুল প্রত্যাশা করিনি। তারপরও আমার সামনে অভিভাবক সদস্য বিল্লাল হোসেন শিক্ষককে মারধর করেছে। পরে আমি দুই পক্ষকে নিভৃত করার চেষ্টা করেও পারিনি। আমি থানা থেকে পুলিশ এনে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।

কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আমানত হোসেন খান বলেন, যারা শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া দরকার।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর