মসজিদ বন্ধ থাকার পর থেকে বিশাল এই চত্বরে প্রতিটি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অতিরিক্ত একজন কর্মী প্রবেশের আবেদনও নাকচ করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বাড়তি কর্মী ঢুকলে কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ওয়াকফ কর্মকর্তারা আরও আশঙ্কা করছেন, মসজিদের প্রধান নামাজের হল এবং ডোম অব দ্য রক-এর ভেতরে গোপন নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, জেরুজালেমের পুরোনো শহর কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, ফলে একসময়কার প্রাণচঞ্চল এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য। তবে এর ঠিক বাইরে স্বাভাবিক জনজীবন বিরাজ করছে যা পরিস্থিতির বৈপরীত্যকে আরও স্পষ্ট করছে।
গত রোববার পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করে আল-আকসার সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে হাজার হাজার মুসল্লি বাধ্য হয়ে রাজপথে নামাজ আদায় করেন।
আল আকসা মসজিদের অধ্যাপক ড. মুস্তফা আবু সোয়ে বলেন, পুরোনো শহরের ভেতর ও বাইরের পরিস্থিতির এই তীব্র পার্থক্য বিস্ময়কর। তার মতে, যদি সত্যিই নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকত, তবে মসজিদের বিশাল ভূগর্ভস্থ স্থানগুলো আশ্রয়ের জন্য ব্যবহার করা যেত।
ওয়াকফ কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাযবায সতর্ক করে বলেছেন, সাময়িক অজুহাতে আরোপিত এই বিধিনিষেধ স্থায়ী রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দখলদার শক্তি অধিকৃত অঞ্চলে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে না। কিন্তু ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই আল-আকসার ঐতিহাসিক ‘স্ট্যাটাস কু’ লঙ্ঘন করে আসছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।