সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় জোর রাষ্ট্রপতির জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন যারা ফ্রান্সে দিনভর বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৩১৪ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে বাংলাদেশে আবার বিদ্যুৎ পাঠাচ্ছে নেপাল অক্টোবরে ২৪ দিনে এলো ২৬৪০০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ পতিত ফ্যাসিস্টদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতায় ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে : আইজিপি বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে : শফিকুর রহমান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওবামার কড়া সমালোচনা করলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা

ঈদের ছুটিতে মিটফোর্ড হাসপাতালে রোগীর চাপ কয়েকগুণ , চিকিৎসাসেবায় ভোগান্তি

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৯২ টাইম ভিউ
ঈদের ছুটিতে মিটফোর্ড হাসপাতালে রোগীর চাপ কয়েকগুণ , চিকিৎসাসেবায় ভোগান্তি

ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের একটি অংশ ছুটিতে থাকায় চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

শনিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন রোগীরা। অতিরিক্ত মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে বদহজম, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিকের তীব্র সমস্যা, ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং হৃদরোগজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে আসছেন।

এছাড়া শিশুদের জ্বর, সর্দি-কাশি ও ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে। দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজনকেও চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। কেরানীগঞ্জ থেকে স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে এনেছেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ডাক্তার দেখাতে পেরেছি। রোগী অনেক, কিন্তু চিকিৎসক কম।”

চার বছরের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আসা আল-আমীন বলেন, “কয়েকদিন ধরে মেয়ের চোখ লাল। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে এনেছি। এখানে রোগীর চাপ অনেক বেশি, অথচ মাত্র দুইজন ডাক্তার চিকিৎসা দিচ্ছেন।”

শেফালী বেগম নামে এক নারী জানান, তার নাতির পেটের সমস্যা নিয়ে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। হাসপাতালে আসা আলমগীর হোসেন বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাত দিয়ে বুক চেপে ধরে তিনি আনসার সদস্যদের কাছে দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ জানান। তবে তাকে লাইনে দাঁড়াতে বলা হয়। পরে তিনি বলেন, “আমার বুকে খুব ব্যাথা করছে, এখনই চিকিৎসা দরকার। কিন্তু সামনে দীর্ঘ লাইন।”

জরুরি বিভাগের সাত তলায় শিশু বিভাগেও ছিল রোগীর চাপ। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি থাকতে দেখা গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, ঈদের ছুটির কারণে চিকিৎসকদের রাউন্ড আগের তুলনায় কমে গেছে। শিশু বিভাগের এক স্বজন বলেন, “কয়েকদিন আগে বাচ্চাকে ভর্তি করেছি। আগে যেভাবে ডাক্তাররা নিয়মিত রাউন্ড দিতেন, ছুটির কারণে এখন সেটা কম।”

টিকিট কাউন্টারের কর্মী সোহেল বলেন, “গত কয়েকদিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বেশিরভাগ রোগী পেটের সমস্যায় ভুগছেন। তবে সব রোগীকেই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, “রোগীর চাপ রয়েছে। অনেক ডাক্তার ও নার্স ছুটিতে গেছেন, আগামীকালের মধ্যে হয়তো ফিরে আসবেন। তবে জরুরি বিভাগে শিফট অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। শুধু বহির্বিভাগ এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।”

এ বিষয়ে ওয়ার্ড মাস্টার সাজ্জাদ হোসেনের বক্তব্য নিতে তার কক্ষে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি জানান, তিনি বাইরে গেছেন। পরে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএমএ রুস্তমের অফিস কক্ষেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর