‘আমার ভাইত তো মরার বয়সি হয় নাই। একটা পা ভাঙিল না ক্যান, একটা হাত ভাঙিল না ক্যান। কী জন্যত চারটা গুলি কইলো আমার ভাইত। আমার কলিজা তো মানোছে না। আমাগ তিনডা গুলি মারি গেলো না ক্যান। আমার ভাই এতো কষ্ট করে মরিছে ভাই।’
সবার ছোট ভাইকে হারিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বুকে গুলি খেয়ে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের বোন সুমি।
তিনি বলেন, ‘হামার ভায়ের এতো মেধা, আমার ভাই ফাইভে বৃত্তি পাইছে, এইটে বৃত্তি পাইছে। হামার ভাই সরকারি কলেজে স্কলারশিপ পাইছে। বাপে আমার খুশিতে কানদিছে। হায়রে ভাই। এতো মেধাবী ছাত্র আমার ভাই। কী জন্যত মারিলো। আমার ভাইক কয়ছুলিম, মানিষেত বিসিএস করে ক্যাং করে ভাই। তুমারা নাত করেন তো। আমরা তখন কবার পারুম, আমরা গরিব মানুষ, আমার ভাইত বিসিএস করে চাকরি করে। ভাই কইছিলো আমি চেষ্টা করিম।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে আবু সাঈদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ছেলেকে হারিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। নির্বাক বাবা।