তিন বছর বয়সী ছোট্ট মেয়েটি বাবা-মাকে বলেছিল তার শোবার ঘরে দানব আছে। বাবা-মা তার কথা শুনে ভেবেছিলেন এটা শিশুদের কল্পনা মাত্র। শুধু তাই নয়, তাকে এক বোতল পানিও দিয়েছিলেন তারা এবং বলেছিলেন ওই দানবকে স্প্রে করে দিতে। তাহলে রাতে দানব তাকে ভয় দেখাতে পারবে না।
কিন্তু এরপর যা আবিষ্কার হয়েছিল তাতে তারা অবাক হয়ে পড়েন। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনায়।
শার্লটের একটি খামারবাড়িতে বাবা-মাসহ বসবাস করে সায়লর নামের ছোট্ট মেয়েটি। খামারবাড়িতে তার কক্ষের কাঠের দেয়ালের ভেতর ‘দানব’ আছে বলে জানিয়েছিল সে।
তার মা অ্যাশলে ম্যাসিস ক্লাস এবং তার স্বামী সায়লর কথায় পাত্তাই দেয়নি। কিন্তু সায়লর বলেই যাচ্ছিল যে তার কক্ষে দানব আছে। এভাবেই কয়েক মাস পেরিয়ে যায়।
এরপর মা ম্যাসিস ক্লাস তাদের ১০০ বছরের পুরনো বাড়ির বাইরে মৌমাছির ঝাঁক দেখতে পান।
সায়লরের বাবা-মা তখনো ভেবেছিলেন, ছাদের কাছে মৌমাছির গুঞ্জন শুনে দানবের কথা বলছে তাদের মেয়ে। ম্যাসিস ক্লাস তখন একটি পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকে (পেস্ট কন্ট্রোল) খবর দেন। কিন্তু তারা তাদের বলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি সুরক্ষিত প্রজাতির মৌমাছি এগুলো। এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলে একজন মৌমাছি পালনকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিই সেই দানবের রহস্য ভেদ করেন।
ওই মৌমাছি পালনকারী দেখতে পান, মৌমাছিগুলো সায়লরের শোবার কক্ষের ঠিক ওপরের দিকে যাচ্ছে। এরপর তিন বছরের শিশুর বেডরুমের কাঠের দেয়াল স্ক্যান করার জন্য একটি থার্মাল ক্যামেরা বসিয়ে দেন তিনি। সেখানেই ধরা পড়ে, হাজার হাজার মৌমাছি বাসা বেঁধেছে ছোট্ট মেয়েটির ঘরে।
অবশেষে সেই কক্ষ থেকে ৫৫ থেকে ৬৫ হাজার মৌমাছি এবং ৪৫ কেজি মৌচাক অপসারণ করা হয়। মৌমাছিরা এই দানব আকারের মৌচাক তৈরি করতে আট মাস ব্যয় করেছিল। মৌমাছিগুলোকে বাক্সবন্দি করে অভয়ারণ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অ্যাশলে ম্যাসিস ক্লাস জানান, বৈদ্যুতিক তারসহ বেশ কিছু জিনিসের ক্ষতি করেছিল মৌমাছিগুলো।
সূত্র : বিবিসি