চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে মঙ্গলবারের সংঘর্ষে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে। এর আগে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের দু’দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম নগরীতে। এতে মানুষের ঢল নামে। পরে আলিফের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতিতে।
বিকাল পৌনে ৫টায় ওই এলাকার ফারাঙ্গা পশ্চিম কূল হযরত আব্দুল লতিফ শাহের (রা.) মাজার মাঠ প্রাঙ্গণে সবশেষ নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার চিন্ময় দাসের মুক্তির দাবিতে চালানো সংঘর্ষের সময় গতকাল চট্টগ্রাম আদালত ভবনের প্রবেশমুখে রঙ্গম কনভেনশন হলের পিছনে হত্যা করা হয় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে।
সাইফুল ইসলাম আলিফ পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তৃতীয়। ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন মেধাবী। লোহাগাড়ার আধুনগর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে জিপিএ ফাইভ পেয়ে দাখিল পাশ করেন। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) থেকে এলএলবি ও এলএলএম পাশ করে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। ২০১৮ সাল থেকে আইনজীবী হিসেবে চট্টগ্রাম আদালতে প্র্যাক্টিস করতেন। সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
নিহতের স্ত্রী ইসরাত জাহান তারিনের বড় ভাই তারেকুল ইসলাম বলেন, আমার বোন তারিনের বিয়ে হয় সাড়ে তিন বছর আগে। তাদের তাজকিয়া নামের আড়াই বছরের এক কন্যা সন্তান আছে। তারিন এখন ৭ মাসের সন্তানসম্ভবা। তারিন ও তার সন্তানদের কী হবে সব মিলিয়ে আমাদের পরিবার দিশেহারা। তিনি আরও বলেন, খুনিরা আমার বোনের জামাইকে অনাগত সন্তানের মুখ দেখতে দেয়নি, নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। অবিলম্বে খুনিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তার মৃত্যুতে পুরো গ্রামজুড়ে চলছে শোকের মাতম ।