মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুপারিশ জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান; মজুত ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট বাড়লো যানবাহনে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও, রাত ৮টা থেকে কার্যকর মানবসেবায় ৭ বার রক্ত দিয়েছেন জাইমা রহমান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ ঘিরে ৪ মামলা, আসামি সাড়ে ১০ হাজার হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু যুদ্ধ বন্ধে খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা, দোহা ছাড়লেন ইরানি প্রতিনিধিরা ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আজ রাতে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে

প্রস্তাবিত স্কুলিং পদ্ধতি বাতিল চাই সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষকরা

জবি প্রতিনিধি:
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯৭ টাইম ভিউ

সাত কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও প্রস্তাবিত স্কুলিং পদ্ধতি বাতিলের দাবিকে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষকরা। বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টায় কলেজ প্রাঙ্গনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলি মুখোপাধ্যায় সহ শতাধিক শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়নের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া এবং বিস্তর গবেষণাসহ কোন স্টেক হোল্ডারদের মতামত গ্রহণ করা হয়নি। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধনে শিক্ষক ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজ মিলে একটি অনুষদ, যেখানে মোট শিক্ষার্থী থাকবে ৭০ জন। তাহলে কলেজ দুটির বাকি অবকাঠামো ও এতগুলো শিক্ষকের কী হবে, তার কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সরকার দিতে পারেনি। তাছাড়া সরকারি প্রস্তাবনায় নারী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কোন সুযোগ রাখা হয়নি।

ইসলাম শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে ৭ কলেজের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মধ্যে ফেলে দেয়া হচ্ছে। আমরা সাত কলেজে ঐতিহ্য ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার জন্য আজকে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন এর সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা সভাপতি ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, সবকিছুতে সোহরাওয়ার্দী কলেজে শিক্ষার পরিবেশ যাতে বিনষ্ট না হয়, আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন এর সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা সভাপতি ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমানও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আল কামাল মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়াও বক্তব্য দেন অর্থনীতির শিক্ষক আব্দুল হালিম, সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম।

পরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন এর সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আল কামাল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় এর খসড়া অধ্যাদেশে শিক্ষকদের ভর্তি কার্যক্রম থেকে শুরু করে ক্লাস, পরীক্ষাসহ কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি অর্থাৎ প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া অধ্যাদেশে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শ্রেণিকার্যক্রমসহ কোন কার্যক্রমেই অংশগ্রহণ করার এখতিয়ার দেয়নি।

চূড়ান্ত অধ্যাদেশ, সিলেবাস ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারিত না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বর্তমানে এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় মডেলে সরকারি কলেজে আসনসংখ্যা কমে গেলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে উচ্চ ফি নির্ভর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে বাধ্য হবেন ফলে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর