মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে সৌদি আরবের কাছে দেওয়া চিঠির জবাব তিন সপ্তাহেও পায়নি বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সৌদি সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় আছেন তারা। সৌদি আরবের সাথে আমাদের মিশন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। আমরা আশা করি যে, শিগগিরই আমরা ওখান থেকে কোনো তথ্য জানতে পারব।এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর ঢাকা পেয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না, কাজ চলছে। কাজ চলছে, সময় লাগবে, সময় লাগছে। তো আমরা আশা করছি যে, সৌদি সরকারের কাছ থেকে আমরা দ্রুত কিছু খবর পাব।
মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে ১৪ অক্টোবর ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে তা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে না জানার কথা বলেছে ঢাকা। সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পর সৌদি কর্তৃপক্ষকে ১৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে তাদের বিষয়ে তথ্য ও বিস্তারিত জানতে চেয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
ওইদিন জেদ্দার পররাষ্ট্র দপ্তরে এ চিঠি পাঠানোর তিনদিন পর ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে একই চিঠি পুনরায় হস্তান্তর করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার পর্যন্ত সেসব চিঠির কোনো প্রতিউত্তর না আসার কথা সোমবার সাংবাদিকদের বলেছেন প্রতিমন্ত্রী শামা।
ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিসহ বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করার কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। গঙ্গায় নতুন চুক্তির না হলে ভারতের পণ্য আসা বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে করা এক প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।
ওই প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গঙ্গা চুক্তি তো ছিলই, এটা আবার রিনিউ হবে। যা ছিল, সেটাই চলমান থাকবে, সেটার জন্যই তো এত আলোচনা। সেটা আমরা আশা করি। বাংলাদেশের জন্য যেটা সঠিক, বাংলাদেশে মানুষের জন্য যেটা সঠিক, সেটাই আমাদের সিদ্ধান্ত থাকবে। আমরা আশা করি যে, ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।
নাহিদ ইসলামের নামোল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি এতটুকু বলতে পারি যে, ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তো বিশাল। সেই বাণিজ্য ঘাটতি আমরা কমাতে চাই। আজকে গঙ্গার চুক্তির জন্যও কিন্তু বসতে হবে, আলোচনা করতে হবে। আমি কিন্তু প্রায় বলি, আপনার প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করতে হলেও সেই ঝগড়ার জন্য ন্যূনতম একটা সম্পর্ক লাগে। আমি যে বন্ধ করব, সেটা বন্ধ করার জন্যও আমার বলা লাগবে, বলার জন্য বসতে হবে। সুতরাং ব্যাপারটা সেই রকম।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সাথে আমাদের সমস্যা আছে, সেই সমস্যাগুলো আলোচনা, কথাবার্তার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আমার ন্যায্য পাওনাটা যদি আদায় করতে হয়, তাহলে সেটার জন্য আমাকে লড়াই করতে হবে, আমাদের যদি লড়াই করতে হয়, সেটার জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এটাই স্বাভাবিক এবং সেটাই কূটনীতি।
ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা কোন পর্যায়ে আছে, এমন প্রশ্নে শামা বলেন, গঙ্গা চুক্তির দরকষাকষির জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি করে দিয়েছেন। অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সেই কমিটির প্রধান। সেখানে পানি সম্পদমন্ত্রীও রয়েছেন। ভারতের সাথে সেই আলোচনাটা হবে আনুষ্ঠানিকভাবে। আরও লোয়ার লেভেলে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে হচ্ছে ওদের সাথে। তো যে আলোচনাটা হবে, সেটা আমরা আশা করি ফলপ্রসূ হবে এবং যে চুক্তিটা এই বছর এক্সপায়ার করে যাচ্ছে, সে চুক্তি আবার নবায়ন হবে, সেটা আমরা বিশ্বাস করি এবং আশা রাখি। আশা করছি যে ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।