সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি ইস্যুতে চলমান আন্দোলনে বগুড়ায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক আহত ও ৩৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে গুলিবিদ্ধ ৩৭ জনকে জেলার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
এছাড়াও সংঘর্ষে পুলিশ, শিক্ষার্থী ও পথচারীসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। পরে তাদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে আজ বেলা ১১টার দিকে বগুড়া শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে শিক্ষার্থীদের মিছিলে প্রথমে সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সাতমাথার জিলা স্কুলের সামনে অবস্থান নেন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল ছুড়ে পুলিশের হামলার পাল্টা জবাব দিলে পুলিশ প্রথমে কিছুটা পিছু হটে সাতমাথা-মেনিরা সড়কে অবস্থান নেয়।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে বগুড়ার সদর থানার পরিদর্শক মো. শাহীনুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে আবার কয়েক শ শটগানের গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় ছত্রভঙ্গ হয়ে শিক্ষার্থীরা পার্ক রোড, স্টেশন সড়ক ও ঝাউতলা এলাকায় অবস্থান নেন। বেলা দেড়টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ।
এসময় পুলিশের মুহুর্মুহু গুলির শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে পুলিশ, শিক্ষার্থী ও পথচারীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৩৭ জনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।