শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

ভয়াবহ গরমে ইউরোপে জরুরি সতর্কতা, ফ্রান্সে মৃত্যু হাজার ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৬৪ টাইম ভিউ
ভয়াবহ গরমে ইউরোপে জরুরি সতর্কতা, ফ্রান্সে মৃত্যু হাজার ছাড়াল

ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া রেকর্ড তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এই চরম গরমে কেবল ফ্রান্সেই এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা।

গরমে প্রাণ হারানোদের বেশিরভাগই বয়োবৃদ্ধ। বিভিন্ন কেয়ার হোম ও নিজস্ব বাসাবাড়িতে মৃত্যুর আরও তথ্য আসতে থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা একে চরম জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট হিসেবে দেখছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়েসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, বর্তমানে ইউরোপের প্রায় ১৫ কোটি মানুষ এই চরম তাপদাহের মধ্যে বসবাস করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগে যে পরিস্থিতি ‘প্রজন্মে একবার’ ঘটত, তা এখন প্রায় প্রতি বছরই ঘটছে। বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, মানুষের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এই তীব্র তাপপ্রবাহ প্রায় অসম্ভব ছিল। তাদের মতে, গত ২০ বছরে রাতের তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর ঝুঁকি প্রায় ১০০ গুণ বেড়েছে।

তীব্র গরমে ইউরোপের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি এবং পোল্যান্ডে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে ট্রেন চলাচল কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং লাইপজিগ শহরে ট্রাম চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, অনেক মানুষ দিনের বেলা বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলছেন।

এদিকে পোপ লিও রোমের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে তীব্র তাপমাত্রার মধ্যেও প্রার্থনায় অংশ নেওয়া পুণ্যার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অতিরিক্ত গরমের প্রভাব পড়েছে নদীগুলোতেও। পানি শুকিয়ে ও উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হাঙ্গেরির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দানিউব নদীর পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে ইতালির পো নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় সমুদ্রের লোনা পানি প্রায় ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত নদীতে ঢুকে পড়েছে, যা কৃষি ও পরিবেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এছাড়া গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে পানিতে ডুবে ইউরোপে একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই তাপপ্রবাহ পশ্চিম ইউরোপ থেকে ধীরে ধীরে মধ্য ইউরোপ ও বলকান অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হলেও এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব আরও ১০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান এনেডিস জানিয়েছে, ফ্রান্সের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের প্রায় ৩৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা পরিবর্তন করতে পারে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর