শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

মার্কিন সেনা হত্যা বা জীবিত ধরে দিতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার: ইরান

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৫ টাইম ভিউ
মার্কিন সেনা হত্যা বা জীবিত ধরে দিতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার: ইরান
ছবি-সংগৃহীত

মার্কিন সেনাদের হত্যা বা জীবিত আটক করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করলে প্রায় ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। কোনো ইরানি নারী এ কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। রবিবার (১৬ আগস্ট) প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ইরানের সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে ইরানি সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দেশটির নাগরিকদের অর্থ সংগ্রহের একটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন আমির হাতামি। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের আওতায় কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা বা জীবিত আটক করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলে ৫ বিলিয়ন তোমান, অর্থাৎ প্রায় ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো সাহসী ইরানি নারী এ ধরনের অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করলে তাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেওয়া হবে। অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্রও বাজারমূল্যের দ্বিগুণ দামে সেনাবাহিনী কিনে নিয়ে একটি বিশেষ জাদুঘরে প্রদর্শন করবে বলে জানান তিনি।ইরানের প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন জেনারেল হাতামি। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইরানি বাহিনী তাদের নতুন সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে শত্রুরা ভুল হিসাব করেছে। ভবিষ্যতে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার জন্যও সতর্ক করেন তিনি।হাতামি বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো সীমাবদ্ধতার মধ্যে নেই। আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা দেশটির প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার সংকল্প বাড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নির্দেশনায় সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন করে পুনর্গঠনের কথাও জানান ইরানের সেনাপ্রধান। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর ছয়জন শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কমান্ডারের পদোন্নতির বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

হরমুজ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে জেনারেল হাতামি বলেন, এই কৌশলগত জলপথ ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক সক্ষমতা। তার দাবি, হরমুজ প্রণালি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যের সমালোচনা করে হাতামি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত ভুল এবং বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করাও বড় ধরনের ভুল।

এ সময় ইরানের সেনাপ্রধান দাবি করেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে অন্তত একবার সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এতে রণতরীটির যুদ্ধবিমানগুলো সাময়িকভাবে উড্ডয়ন করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি অস্বীকার করেছে। হাতামির দাবি, রণতরীটিতে বিশৃঙ্খলা ও নাবিকদের মধ্যে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে এবং এ কারণে এটি পিছু হটছে।

ইরানের সেনাপ্রধান আরও দাবি করেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে এ অঞ্চলে মোতায়েন রাখা হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন পক্ষও রণতরীটির ক্ষয়ক্ষতি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর