যশোরের শার্শায় হামলা চালিয়ে একই পরিবারের ৫ ভাইকে পিটিয়ে জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে শার্শার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রুপুর হাড়িপোল পশ্চিম পাড়া গ্রামে। জানা গেছে, মঙ্গলবার (১১ মার্চ ) সকালে ৫ ভাই মাঠে কাজ করতে গেলে কোন কিছু জানা বা বোঝার আগেই পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে দূর্বৃত্তরা তাদের উপরে হামলা করে। হামলায় আহতরা হলেন, রুদ্রপুর হাড়িপোল পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত আমির চাঁদের ছেলে কুতুব আলী (৫৫), কিতাব আলী (৪৮), হানিফ আলী (৪০), আইয়ুব আলী (৩৫) ও টিংকু আলী (৩২)। আহতদের মধ্যে আইয়ুব আলীর অবস্থা আশংকজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের স্বজনেরা জানান, দূর্বৃত্তদের লাঠির আঘাতে আইয়ুব আলীর ডান হাতের কব্জিসহ ৩ জায়গা ভেঙ্গে গেছে। জানা গেছে, গত ৫/৬ মাস ধরে রুদ্রুপুর হাড়িপোল পাড়ার মৃত মকছেদ আলীর ছেলে কওছার (৬৫), হাবিবুর রহমান (৪৮), কাওছার আলীর ছেলে মোকাদ্দিন (৩৫) ও জা-বক্সসহ কতিপয় দূর্বৃত্তরা গ্রামের নিরীহ মানুষের ওপর নানা অত্যাচার ও মারপিট করে আসছে। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীকেও মারপিট করছে। এজন্য ঐ দূর্বৃত্তদের কারনে রুদ্রুপুর গ্রামে অশান্তি লেগেই রয়েছে। এসব অপরাধী দূর্বৃত্তদের কেউ রুখতে পারছে না।
এসব ঘটনায় আগেও দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা রয়েছে। কিছু দিন বন্ধ থাকার পর তার আবারো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে রুদ্রুপুর গ্রামে এসব অপকর্মের পিছনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে মৃত ইশা খার ছেলে কামরুল ইসলাম (৬৫)।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আহত কিতাব আলী জানান, কোন কারন ছাড়াই দূর্বৃত্তরা তাদের ৫ ভাইয়ের ওপর ৫ দফা হামলা করে মারপিট করেছে। তাদের একটি পালসার মোটরসাইকেল ভাংচুর করেছে। তাদের বাজারে ও মাঠে যাওয়া বন্ধ করে রেখেছে। তিনি আরো জানান, তারা ৫ ভাই কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তিনি ৬ বিঘা জমিতে ইরি ধান লাগিয়েছেন। দূর্বৃত্তরা তাদের হাট, ঘাট ও মাঠ বন্ধ করে দেওয়ার কারনে ফসলি জমিতে সার, পানির সেচ দিতে না পারায় তাদের ক্ষেতের ফসল নষ্ট হতে চলেছে। তিনি আরও জানান তার ভাই দূর্বৃত্তদের ভয়ে এখন বাড়ি ছাড়া।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম রবিউল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। যদি কোন ব্যাক্তি অভিযোগ করে তা হলে তদন্ত করে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।