শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন অধ্যাপক ইউনূস দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জামায়াত আমিরের “শিল্পী সমাজের প্রতি দর্শকের আস্থার সংকট, নাকি রাজনীতির অদৃশ্য প্রভাব ?” জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ হাসনাতের যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে সরকারি কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৭ রাশিয়ায় চার ইউরোপীয় দেশের কোম্পানির সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে মস্কো নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

“শিল্পী সমাজের প্রতি দর্শকের আস্থার সংকট, নাকি রাজনীতির অদৃশ্য প্রভাব ?”

এস.এ.এম সুমন সাংবাদিক ও চিত্র পরিচালক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২ টাইম ভিউ
"শিল্পী সমাজের প্রতি দর্শকের আস্থার সংকট, নাকি রাজনীতির অদৃশ্য প্রভাব ?"
"শিল্পী সমাজের প্রতি দর্শকের আস্থার সংকট, নাকি রাজনীতির অদৃশ্য প্রভাব ?"

বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমাদের জাতিসত্তা, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ে এ দেশের শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের সৃজনশীলতা, প্রতিবাদী কণ্ঠ এবং দেশপ্রেম প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) এবং দেশের টেলিভিশন অঙ্গনের গুণী অভিনেতা-অভিনেত্রী, নির্মাতা, কলাকুশলী ও সংস্কৃতিকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জায়গা দখল করে ছিলেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই অবস্থানে কি ভাটা পড়ছে? দর্শকের ভালোবাসা ও আস্থার জায়গায় কেন তৈরি হচ্ছে দূরত্ব?

বর্তমান সময়ে দেশের বিনোদন অঙ্গন নিয়ে এমন প্রশ্ন ক্রমেই আলোচনায় আসছে। একসময় চলচ্চিত্র কিংবা টেলিভিশনের প্রিয় শিল্পীদের উপস্থিতি দর্শকের মনে আনন্দ, আবেগ ও ভালো লাগার জন্ম দিত। তাঁদের অভিনয়, সংলাপ, গান ও সৃজনশীল কাজ মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিল্পী সমাজের একটি অংশের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, দলীয় অবস্থান এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে শিল্পীদের প্রতি সাধারণ দর্শকের দীর্ঘদিনের আবেগ, বিশ্বাস ও ভালোবাসা কোথাও কোথাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।

তবে এ পরিস্থিতির দায় কি শুধুই শিল্পী সমাজের? নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলীয় স্বার্থ এবং ক্ষমতার সমীকরণ? প্রশ্নটি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শিল্পী কি শিল্পের পরিচয়ে, নাকি রাজনৈতিক পরিচয়ে মূল্যায়িত হবেন?

একজন শিল্পীর প্রধান পরিচয় তাঁর সৃষ্টিশীলতা, মেধা, মনন ও শিল্পকর্ম। একজন অভিনেতা তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন; একজন গায়ক তাঁর কণ্ঠে মানুষের আবেগকে ধারণ করেন; আর একজন নির্মাতা তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ ও সময়ের গল্প তুলে ধরেন। শিল্পের এই সর্বজনীন শক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থাকার কথা।

কিন্তু শিল্পী যখন প্রকাশ্যে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন, তখন তাঁর শিল্পী পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। শিল্পীরাও এর ব্যতিক্রম নন। তবে যখন কোনো শিল্পীর বক্তব্য, কর্মকাণ্ড কিংবা অবস্থানকে দলীয় স্বার্থের সঙ্গে একাকার করে দেখা হয়, তখন তাঁর শিল্পীসত্তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

এখানেই প্রশ্ন ওঠে শিল্পীরা কি নিজেদের স্বাধীন অবস্থান ধরে রাখতে পারছেন, নাকি কখনো কখনো রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব তাঁদের পেশাগত পরিচয়কে আড়াল করে দিচ্ছে?

রাজনৈতিক স্বার্থে শিল্পী সমাজের ব্যবহার কতটা যৌক্তিক?

রাজনীতির সঙ্গে সংস্কৃতির সম্পর্ক নতুন নয়। পৃথিবীর বহু দেশেই রাজনৈতিক দলগুলো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সমর্থন, জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও শিল্পী সমাজের একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, দলীয় অবস্থান প্রকাশ করেছেন কিংবা রাজনৈতিক প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন।

রাজনৈতিক মত প্রকাশ বা কোনো দলের প্রতি সমর্থন নিজে থেকেই অপরাধ কিংবা অনৈতিকতার প্রমাণ নয়। কিন্তু শিল্পীদের জনপ্রিয়তাকে যদি কেবল দলীয় স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, অথবা তাঁদের দিয়ে এমন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ানো হয়, যা সমাজে বিভাজন বাড়ায়, তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব শিল্পী সমাজের ওপরও পড়তে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে শিল্পীদের জনপ্রিয়তা হয়তো জনমত তৈরির একটি মাধ্যম। কিন্তু শিল্পীদের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁদের দর্শক, শ্রোতা ও ভক্তদের বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু একজন শিল্পীর ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে অভিযোগ, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং প্রমাণিত অনিয়মের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। কোনো শিল্পীর রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই তাঁকে সামগ্রিকভাবে দায়ী করা যায় না। একইভাবে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও যথাযথ তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

দর্শক কেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন?

দর্শকের রুচি, প্রত্যাশা ও বিনোদন গ্রহণের মাধ্যম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় সিনেমা হল কিংবা টেলিভিশনের পর্দাই ছিল বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র। বর্তমানে ইউটিউব, ফেসবুক, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ নানা ডিজিটাল মাধ্যম দর্শকের সামনে বিকল্পের বিশাল জগৎ খুলে দিয়েছে।

এ পরিবর্তনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গল্প, নির্মাণের মান, অভিনয়ের বৈচিত্র্য, টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা এবং শিল্পীদের জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও দর্শকের আগ্রহ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। দর্শক এখন শুধু পরিচিত মুখ দেখতে চান না; তাঁরা চান মানসম্মত গল্প, বিশ্বাসযোগ্য অভিনয়, নতুনত্ব এবং বিনোদনের পাশাপাশি চিন্তার খোরাক।

এমন পরিস্থিতিতে শিল্পী সমাজের কোনো অংশের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কিংবা দলীয় পরিচয়কেন্দ্রিক আলোচনাও দর্শকের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে দর্শকের আগ্রহ কমে যাওয়ার জন্য কেবল রাজনীতিকে দায়ী করলে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে না। দুর্বল চিত্রনাট্য, নির্মাণ ব্যয় ও বাজারসংকট, প্রেক্ষাগৃহের সীমাবদ্ধতা, পেশাগত অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক ও ডিজিটাল বিনোদনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

অর্থাৎ, দর্শককে ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু বিতর্ক এড়িয়ে চলা নয়, শিল্পের মান উন্নয়ন এবং দর্শকের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক পুনর্গঠনও জরুরি।

বিএফডিসি ও টেলিভিশন অঙ্গনের ঐতিহ্য রক্ষায় করণীয়

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের ইতিহাসে অসংখ্য গুণী শিল্পী তাঁদের শ্রম, মেধা ও ত্যাগের মাধ্যমে অনন্য অবদান রেখেছেন। তাঁদের অনেকের অভিনয়, গান, সংলাপ ও সৃষ্টিকর্ম আজও মানুষের স্মৃতিতে অমলিন। এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করা কেবল শিল্পীদের দায়িত্ব নয়; প্রযোজক, পরিচালক, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নীতিনির্ধারক এবং দর্শক সবারই সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

শিল্পী সমাজের উচিত পেশাগত সততা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৃজনশীল স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়া। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে যেন শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত শিল্পীদের জনপ্রিয়তাকে কেবল প্রচারণার উপকরণ হিসেবে না দেখে তাঁদের স্বাধীন শিল্পীসত্তা ও পেশাগত মর্যাদাকে সম্মান করা।

অন্যদিকে, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজন মানসম্মত প্রযোজনা, নতুন প্রতিভা বিকাশ, পেশাদার কর্মপরিবেশ এবং দর্শকের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সৃজনশীল উদ্যোগ। পাশাপাশি পুরোনো চলচ্চিত্র, নাটক, গান ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আস্থার সংকট কাটাতে প্রয়োজন আত্মসমালোচনা ও সংস্কার

শিল্পী সমাজের প্রতি দর্শকের ভালোবাসা কোনো একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের সৃজনশীলতা, পরিশ্রম, ত্যাগ এবং অসংখ্য স্মরণীয় কাজের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই সাময়িক বিতর্ক কিংবা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সেই সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা, দায়িত্বশীল আচরণ ও মানসম্মত শিল্পচর্চা।

শিল্পীদের নিজেদের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত যোগ্যতা ও সৃজনশীলতাকে মূল্যায়ন করতে হবে।

একই সঙ্গে দর্শকদেরও উচিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিতর্কের বাইরে গিয়ে শিল্পকর্মের মান, অবদান ও বাস্তবতাকে বিবেচনা করা। কারণ, একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর শিল্পকর্মের মূল্যায়ন সব সময় এক বিষয় নয়।

শেষ কথা

কালের বিবর্তনে সমাজ বদলাবে, দর্শকের রুচি বদলাবে, বিনোদনের মাধ্যম বদলাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ভিড়ে আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির শেকড় যেন হারিয়ে না যায়। বিএফডিসি ও টেলিভিশন অঙ্গনের গৌরবময় ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে শিল্পী সমাজকে যেমন আত্মসমালোচনার সাহস দেখাতে হবে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের স্বার্থে সংস্কৃতিকে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রশ্নটি তাই শুধু শিল্পীদের নয়, রাজনীতিরও; শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, দর্শকেরও। আমরা কি শিল্পীকে তাঁর শিল্পের জন্য সম্মান জানাব, নাকি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বিচার করব? আমরা কি সংস্কৃতিকে মানুষের মিলনের সেতু হিসেবে দেখব, নাকি রাজনৈতিক বিভাজনের আরেকটি ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার হতে দেব?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। কারণ, শিল্পী ও দর্শকের সম্পর্কের ভিত্তি যদি বিশ্বাস হয়, তবে সেই বিশ্বাস রক্ষার দায়িত্ব সবার। শিল্পের স্বাধীনতা, সৃজনশীলতার মর্যাদা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও সামগ্রিক সংস্কৃতি আবারও মানুষের হৃদয়ে তার শক্ত অবস্থান ফিরে পেতে পারে।

আমাদের ঐতিহ্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া এক অমূল্য সম্পদ। সেই সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর