শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মরিশাসে ভারী কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অসত্য দাবি করে নিন্দা জামায়াতের জামায়াতকে রুখে দিতে না পারলে দেশে আরও একটি বিপর্যয় হবে: নুর আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের উসকানিতেই পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: রিজভী টেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহ, উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩৫

সিরিয়া বেসামরিক নাগরিকদের জন্য আরো বিপজ্জনক : জাতিসঙ্ঘ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪
  • ১০৩ টাইম ভিউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার ১৩ বছরেরও বেশি সময় পরে জাতিসঙ্ঘ বলেছে, দেশটি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য আরো বিপজ্জনক জায়গায় পরিণত হয়েছে।

তারা উল্লেখ করেছে, সঙ্ঘাতটি শুরু করার জন্যে দায়ী প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অত্যাচারী সরকার এখনো ক্ষমতায় আছে এবং একাধিক অঙ্গনে ক্রমাগত বৈরিতা বাড়িয়ে চলেছে।

শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়ার বাসিন্দা এবং মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী অ্যাডাম আবদেলমৌলা বলেন, ‘সিরিয়ার সঙ্কট বিশ্বের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক ঘটনাগুলোর অন্যতম। সিরিয়ার বিভিন্ন অংশে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে এবং সম্প্রতি, বিশেষ করে উত্তরে এটি প্রচণ্ডভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে।’

জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) মতে, সঙ্ঘাতের কারণে ২০২৩ সালের প্রথম ১০ মাসে ৮৮ জন নারী ও ১১৫ টি শিশুসহ ৪৫৪জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

এই হতাহতের ঘটনাগুলো সিরিয়ার জনসংখ্যার ওপর যুদ্ধের কারণে নিহতের সংখ্যার সর্বসাম্প্রতিক বহিপ্রকাশ।

জাতিসঙ্ঘ ধারণা করে, ২০১১ সালের ১৫ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তিন লাখ মানুষ নিহত হয়েছে, এক কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সিরিয়ার ভেতরে ৬৮ লাখ এবং পাঁচটি প্রতিবেশী দেশে শরণার্থী হিসেবে রয়েছে ৫৪ লাখ মানুষ।

রাজধানী দামেস্ক থেকে রাখা বক্তব্যে আবদেলমৌলা বলেন, ‘আজ সিরিয়ায় প্রায় এক কোটি ৬৭ লাখ মানুষের যে কোনো ধরনের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধায় ভুগছে।

যদিও সিরিয়ার বেসামরিক জনসংখ্যার বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্য মানবসৃষ্ট দুর্যোগগুলো মূলত দায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ুর প্রভাবগুলো এই দুর্দশাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

ওসিএইচএ বলছে, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে প্রায় ছয় হাজার লোকের মৃত্যু হয় এবং ১২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি আহত হয়। যা পরিষেবা ব্যবস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়ায়, বাস্তুচ্যুতি ঘটায় এবং ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

তারা আরো উল্লেখ করে, ‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ থাকা অবস্থায় অনেক পরিবার তাদের প্রধান উপার্জনকারীকে হারিয়েছে।’

ওসিএইচএ বলছে, গত সপ্তাহে দু’দিনের প্রবল বন্যা ইদলিব এবং উত্তর আলেপ্পোর বেশ কয়েকটি শরণার্থী শিবিরে ১৫ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি লোককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ বছর উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় ১০০টিরও বেশি বন্যায় তিন হাজার ৩০০টিরও বেশি পরিবারের তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫০০টি ধ্বংস হয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ এই বছর এক কোটি ৬৭ লাখ সিরীয়দের মধ্যে এক কোটি আট লাখ মানুষকে জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য ৪০৭ কোটি ডলারের আবেদন করছে।

আবদেলমৌলা সতর্ক করেন, সিরিয়ার সাহায্যের আহ্বান উপেক্ষা করা এই অঞ্চলে এবং এর বাইরেও সম্প্রতি দেখা সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানসহ একটি বিপজ্জনক, অস্থিতিশীল প্রভাব ফেলবে।

তিনি আরো সতর্ক করেন, সিরিয়ার দুর্দশা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়ার ফলে লেবানন এবং জর্ডানের মতো দেশে শরণার্থীদের একটি নতুন ঢেউ আসতে পারে। এই দেশগুলো ইতোমধ্যেই প্রচুর সংখ্যক সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার চাপে ভুগছে।

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালে আমরা ইউরোপে আশ্রয়ের জন্য এক লাখ ৮১ হাজার নতুন আবেদন দেখেছি। এটি ২০২২ সালের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধির প্রকাশ।

 

সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর