শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অসত্য দাবি করে নিন্দা জামায়াতের জামায়াতকে রুখে দিতে না পারলে দেশে আরও একটি বিপর্যয় হবে: নুর আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের উসকানিতেই পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: রিজভী টেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহ, উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩৫ কলেজের অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

পশ্চিমবঙ্গে ভোট শেষ, সহিংসতা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪
  • ১০২ টাইম ভিউ

 

ভারতে লোকসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে চলছে সহিংসতা, যার প্রধান শিকার বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস ও আইএসএফের কর্মী, বুথ এজেন্ট ও সমর্থকরা। অভিযোগের আঙুল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। বিজেপি জানিয়েছে, কলকাতায় বিজেপি অফিস ও বিশ্রামাগারে প্রচুর ঘরছাড়া মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এই সহিংসতা প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে বলে দাবি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল অভিযোগ করেছে।

শুভেন্দুকে আটকাল পুলিশ
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে সহিংসতার ফলে ঘরছাড়া মানুষদের নিয়ে রাজ্যপাল আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজভবন থেকে এ জন্য সময়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে রাজভবনমুখি সব পথ ব্যারিকেড লাগিয়ে বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

শুভেন্দু রাজভবনে ফোন করে বলেন, সহিংসতার শিকার মানুষদের নিয়ে তাকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

কিন্তু রাজভবন থেকে জানানো হয়, রাজভবনের বাইরের এলাকার ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সেটা পুলিশের অধীনে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজভবনের সামনে সব সময় ১৪৪ ধারা জারি করা থাকে। সেখানে ২০০ জন মানুষকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন শুভেন্দু।

পুলিশ প্রধানের অনুমতি ছাড়া এটা করা যায় না। তাই তাকে আটকে দেওয়া হয়েছে।
এরপর শুভেন্দু কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানান। প্রশ্ন করেন, কেন তাকে রাজভবনে যেতে দেওয়া হবে না? এভাবে আটকে দেওয়া হবে? বিচারপতি অমৃতা সিনহা তাকে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন। সেই মামলার শুনানি শুরু হয় শুক্রবার দুপুর ২টার পর।

সহিংসতার ঘটনা
এদিকে ভোটের পর মালদহে একজন কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাকে আমবাগানে তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। মৃত কংগ্রেস কর্মীর নাম আকমল শেখ। মালদহ দক্ষিণ থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সংসদ সদস্য ঈশা খান চৌধুরী বলেছেন, শাসকদলের দুষ্কৃতীরা এই কাজ করেছে।

ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর মালদহে এবং যাদবপুরে সিপিএম ও কংগ্রেসের দলীয় অফিস আক্রমণ করা হয়। এজেন্টদের মারধর করা হয়। অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে।

কাকদ্বীপে তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে বিজেপির বুথ সভাপতি ও প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকের বাড়িতে হামলা করা হয়। তার বৃদ্ধা মাকেও হেনস্থা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিজয় মিছিল থেকে লোক ওই শিক্ষকের বাড়িতে ঢুকছে। তার জমিও জবরদখল করে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির জানালার কাচ ভাঙা হয়েছে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এর সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই। এটা নিছকই জমিসংক্রান্ত বিবাদ।

এ ছাড়া কলকাতার কসবায় ১০৭ ও ১২০৮ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক হাঙ্গামা হয়েছে। সাতজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় বারণ করা সত্ত্বেও বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য পানির পাইপ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হুগলির চুঁচুড়ায় বিজেপির এসসি মোর্চার নেতাকে চড় মারা হয়েছে।

কোচবিহারে বিজেপির পঞ্চায়েত অফিসে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। জোর করে গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নেওয়া হয়েছিল বলেও নিশীথ প্রামাণিক অভিযোগ করেছেন। তিনি বেশ কয়েকজন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি গেছেন ও কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছেন।

মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের পাথরপ্রতিমায় তৃণমূলের নেতা মহিম মোল্লাকে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, আইএসএফ সমর্থকরা এই কাজ করেছে।

রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য
রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, তারা একটা বিশ্রামাগার ভাড়া করে ঘরছাড়া মানুষদের রেখেছেন। তৃণমূলের কর্মীরা বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বাড়ির কাছ থেকে টিউবওয়েল তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘দেশে জরুরি অবস্থার সময়ও এ রকম ঘটনা ঘটেনি।’

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘শুভেন্দু যা করেছেন তা নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিজেপি নেতারা একে অন্যের সঙ্গে মারামারি করছেন। ওখানে কেউ যদি ঘরছাড়া হন, তাহলে সেটা দিলীপ ঘোষ হয়েছেন।’

‘সরকার চাইলেই বন্ধ হবে’
প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ‘সরকার না চাইলে সহিংসতা বন্ধ হবে না। আর সরকার যদি চায় তো, এক দিনে তা বন্ধ করে দিতে পারে। পুলিশের কাছে স্পষ্ট নির্দেশ দিলেই সব বন্ধ হবে।’

শুভাশিস মনে করছেন, ‘মমতা এবার স্লোগান দিয়েছিলেন, শান্তিপূর্ণ বাংলা চাই। এই সহিংসতা সেখানে ধাক্কা দিল। শহরের মানুষ এটা ভালোভাবে নিচ্ছে না। রাজ্যের অনেক পৌরসভায় বিজেপি ভালো ফল করেছে। এই সহিংসতার মধ্যে কোথাও একটা সম্পদের বিষয় আছে। শুধু রাজনৈতিক আদর্শের জন্য এটা হয় না।’

সাংবাদিক শরদ গুপ্তাও জানিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক ইচ্ছা থাকলে যে ভোটকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বন্ধ করা যায়, বিহার তার প্রমাণ। ফলে পশ্চিমবঙ্গে সত্যিই চেষ্টা করা হলে এই সহিংসতা বন্ধ হতে বাধ্য।’

 

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর