ভোলা-লক্ষীপুর মহাসড়কের ইলিশা জংশন বাজারে রাস্তার ওপর বসানো হয়েছে কুরবানির পশুরহাট। মহাসড়কে পশুরহাট বসানো নিষেধ থাকলেও ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জংশন বাজার ইজারাদার মো. সোহরাওয়ার্দী মাস্টার এ হাট বসিয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ইলিশা ইউনিয়নের জংশন দক্ষিণ বাজারে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত গরু বিক্রির জন্য সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। এ সময় রাস্তার উভয়দিকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ভোলা-লক্ষীপুর মহাসড়কের ওপর কোরবানির ঈদের আগে ইলিশার হাট ও জংশন বাজারের গরুরহাট বসে। এতে করে যান চালচল বিঘ্নিত হয়। ভোলার চারপাশে নদী বেষ্টিত হওয়ায় ইলিশা লঞ্চঘাটটি ভোলায় প্রবেশের মূল পথ। সড়কের ওপর গরুর হাট বসানোর ফলে এ সড়কে চালচলকারী বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
হাটের ময়লা-আবর্জনার কারনে মোটরসাইকেল চালকরাও দুর্ঘটনায় শিকার হয়। কিন্তু ইজারাদার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলেন না। প্রশাসনও অনেকটা নিরব ভূমিকায় থাকেন।
ভোলা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাওয়া ট্রাকচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ইলিশাঘাট দিয়ে তিনি প্রায়ই মালামাল নিয়ে চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া করে থাকেন।
কুরবানির ঈদের সময় এ সড়কের দুই জায়গায় গরুর হাট বসানোর কারণে যানজটের মধ্যে পড়তে হয়।
জংশন বাজারের গরুরহাটের দয়িত্বে থাকা কাঞ্চন মিয়া জানান, হাটটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাওয়ার্দী মাস্টারের। তিনি এখানে শুধু দেখাভাল করছেন।
এ বিষয়ে ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বাজার ইজারাদার সোহরাওয়ার্দী মাস্টার জানান, বাজারটি কাগজপত্রে তার নামে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান মেম্বার, কাঞ্চন ভুলাই, জাকির হোসেন মঞ্জু ও রফিক মাস্টারসহ চার জনে রাখেন।
তারাই এটির আয়-ব্যায় নিয়ে থাকেন। তারা বুঝেনা দেখে তিনি ইজারা নিয়ে দেন।
তিনি আরো জানান, বাজারের জায়গা না থাকায় রাস্তার পাশে বসেছে। সরকার বাজার ইজারা দেয়, কিন্তু বাজার বসার কোনো জায়গা নেই।
ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল চন্দ্র শীল জানান, সোহরাওয়ার্দী মাস্টার বাজার ইজারা নিয়েছেন। গরুর হাট একটি নির্দিষ্ট স্থানে খোলা জায়গায় বসবে। সড়কের ওপরে বসানোর কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তার জানা ছিল না। জেনে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
ভোলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, মন্ত্রনালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে মহাসড়কের ওপর কোনো প্রকার গরুরহাট বসানো যাবে না। ভোলার বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি জেনে দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।