শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

মোংলা বন্দরের সব সূচকের ঊর্ধ্বগতি

অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪
  • ৮৩ টাইম ভিউ

পদ্মা সেতুর কল্যাণে মোংলা বন্দরের সাথে রেল সংযোগ স্থাপন করায় পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে নবদিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। এই বন্দর দিয়ে বাড়ছে আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আদায়। গত অর্থবছর বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন, গাড়ি আমদানি, কার্গো হ্যান্ডলিং ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি এবং সব সূচক ইতিবাচক ধারায় থাকায় বন্দরে নিট মুনাফা বেড়েছে ২৮.৫৫ শতাংশ।

মোংলা বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিং দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় বিদেশি ব্যবসায়ীরাও এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলে এই বন্দর দিয়ে এখন পণ্য আমদানি-রপ্তানি বেড়ে চলেছে। পণ্যগুলো নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে আমদানি-রপ্তানি করার ক্ষেত্রে মোংলা বন্দরও সার্বিক দিক দিয়ে প্রস্তুত বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

মোংলা বন্দর খুলনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর। এ বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন শিল্পকারখানা, সম্প্রসারিত হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণসহ দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চল তথা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে এ বন্দর।

গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬টি জাহাজ বেশি ভিড়েছে মোংলা বন্দরে। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮৪৬টি জাহাজ এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৯টি বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাহাজ আগমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৪০টি, অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬টি জাহাজ বেশি এসেছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের মোট গাড়ি আমদানি হয়েছিল ১৩ হাজার ৫৭৬টি অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫ হাজার ৩৪০টি গাড়ি আমদানি হয়েছে অর্থাৎ এ বছরে ১ হাজার ৭৬৪টি গাড়ি বেশি আমদানি হয়েছে। গত ১০ বছরে এ বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত গাড়ির সংখ্যা এক কোটি সাত লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৯টি।

কার্গো হ্যান্ডলিং গত অর্থবছরে বেশি হয়েছে ৯.৬৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৯৯.০৫ লাখ মেট্রিক টনের জায়গায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০৮.৬৮ লাখ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ২৬ হাজার ৫৮৩ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল। সেটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উন্নীত হয় ৩১ হাজার ৪৪ টিইইউজ-এ।

আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরের অর্জিত রাজস্ব মুনাফা বেড়েছে ২৮.৫৫ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ৩০২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৩১৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, মোংলা বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন, গাড়ি আমদানি, কার্গো হ্যান্ডলিং ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে। সব সূচক পজিটিভ ধারায় থাকার ফলে বন্দরে নিট মুনাফা বেড়েছে ২৮.৫৫ শতাংশ।

পদ্মা সেতুর কারণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের মহাকর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। এ বন্দর থেকে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও তার পার্শ্ববতী জেলা থেকে পণ্য আনা-নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে। এতে বন্দর ব্যবহারকারীদের সময় এবং অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর কল্যাণে রাজধানীর সব থেকে কাছের বন্দর হওয়ায় মোংলা হয়ে পোশাকশিল্পের বিভিন্ন পণ্যও যাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। মোংলা বন্দরের সাথে রেল সংযোগ স্থাপন করায় পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে নবদিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে।

মোংলা বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিং দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় বিদেশি ব্যবসায়ীরাও এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলে এই বন্দর দিয়ে এখন পণ্য আমদানি-রপ্তানি বেড়ে চলেছে। পণ্যগুলো নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে আমদানি-রপ্তানি করার ক্ষেত্রে মোংলা বন্দরও সার্বিক দিক দিয়ে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

এ বন্দর দিয়ে প্রধান আমদানি পণ্য হিসেবে রয়েছে খাদ্যশস্য, সার, গাড়ি, এলপি গ্যাস, স্লাগ, লাইম স্টোন, সয়াবিন তেল, জিপসাম, মেশিনারি, কয়লা, পাথর, ক্লিংকার,পামওয়েল, ফ্লুড ওয়েল, ফ্লাই এ্যাস, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, মোবাইল এক্সেসরিজ, ট্রাইসাইকেল পার্টস, ডাল, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, পাটজাত পণ্য, খালি গ্যাস সিলিন্ডার, খেলনা, মেশিনার, রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, গ্লু এবং মটরপার্টস, লক, উডেন লক ইত্যাদি।

প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে– গার্মেন্টস, পাট, পাটজাত পণ্য, চিংড়ি, সাদা মাছ, শুকনো মাছ, ক্লেটাইলস, কাঁকড়া, মেশিনারি, কটন ইয়ার্ন ইত্যাদি। এছাড়া মোংলা ইপিজেড হতে বিশ্বের প্রায় ৩৮টি দেশে পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। রপ্তানিকৃত পণ্যসমূহ হলো– গার্মেন্টস, কাগজের তৈরি পণ্য, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, ব্যাগ, পাটজাত পণ্য, গাড়ির সিট, হিটার, মারবেল টাইলস, হিউম্যান হেয়ার, জিপার, সিগারেট, জ্যাকেট এবং নেট ইত্যাদি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর