দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও কাতারের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইসরায়েল। মিসরের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আল কাহেরা নিউজ টিভি সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে নিরস্ত্র করার শর্তে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির এ প্রস্তাব না করে দিয়েছে বা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, হামাস মিশরের কাছ থেকে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পেয়েছে। তবে মিশরীয় পক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্ভব না। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মিশরের প্রস্তাবে আমাদের প্রতিনিধি দল বিস্মিত হয়েছে, তাদের প্রস্তাবে প্রতিরোধ নিরস্ত্রীকরণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত।’
এর আগে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দিয়েছিল হামাস। সেখানে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ইসরায়েল যদি গাজা থেকে সব সেনা সরিয়ে নিতে সম্মত হয়, তাহলে হামাসও গাজায় বন্দি সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করে দেবে।
তবে নিরাপত্তার অজুহাতে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি হয়নি ইসরায়েল। ফলে জিম্মিরাও মুক্তি পায়নি। ২০২৩ সালে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৪২ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা।
আকস্মিক এই হামলার পর ওইদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। টানা ১৫ মাস অভিযান চালানোর পর গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তবে গত ১৮ মার্চ থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ফের গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ৫১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।