রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার পৌর ৫ নং ওয়ার্ড জুড়ান মোল্লা পাড়া অবস্থিত গোয়ালন্দ পাক-দরবার শরীফের পীর নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল (৮৫) বার্ধক্য জনীত কারণে ইন্তেকাল করেছেন। শনিবার (২৩ আগস্ট) ভোর ৬ টায় ঢাকার পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি পৌর এলাকার জুড়ান মোল্লা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত হাতেম মোল্লা ও আখেরুন নেছা দম্পতির কনিষ্ঠ পুত্র। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে নুরাল পাগল নামের একজন ব্যক্তি নিজেকে ইমাম মাহদী হিসেবে দাবী করে বিশ্ব ব্যাপী ব্যপক আলোচনায়–বরং বলা ভালো সমালোচনার ঝড়েই পরিণত হয়ে উঠেছিলেন। ইনিই সেই নুরাল পাগলা।
একদিকে, ইসলাম ধর্মীয় শরীয়ত পরিমণ্ডলে এমন দাবী খুবই স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় ইসলামী পণ্ডিত, আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। অনেকে তাঁর এই দাবীকে বিভ্রান্তিকর ও ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক আখ্যা দেন। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়, এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছিল।
সে সময় দেশের অনেক বিখ্যাত আলেম ওলামাগণ ইসলামি ঐতিহ্যে ইমাম মাহদী আগমন সম্পর্কে নানা বর্ণনা থাকলেও কাকে, কখন, কোথায় মাহদী বলা হবে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় এ ধরনের আত্মপ্রকাশকে মূলধারার আলেমরা ভ্রান্ত মতবাদ হিসেবে গণ্য করেন। পক্ষান্তরে সুফিবাদ অনুসারীদের অনেকেই।নুরাল পাগলার ওই দাবীকে সমর্থন করেছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি গোয়ালন্দের জুরান মন্ডল পাড়ায় নিজ বাসগৃহ ও দরবার শরীফ, দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতী-নাতনী, আত্মীয়স্বজন ও হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ রেখে গেছেন।