বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন

প্রতিনিধি :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭৭ টাইম ভিউ

সুনামগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে অন্যের দোকানের জমি দখল করে পাকা দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের চকবাজার এলাকায়। মঙ্গলবার বিকেলে বাজারের ব্যবসায়ীরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।অভিযুক্ত এনসিপি নেতা হলেন সংগঠনটির জেলা কমিটির প্রথম যুগ্ম সমন্বয়কারী এবং চকবাজার সংলগ্ন এরোয়াখাই গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান ওরফে স্বপন। জমি দখলের পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে বাজারের নৌকাঘাট দখল এবং একজন ব্যক্তির কাছ থেকে নৌকা চালানোর বিনিময়ে দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায়ের লিখিত অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আতাউর রহমান।

চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী জুয়েল আহমদ অভিযোগ করেন, বাজারে ‘জুয়েল ভেরাইটিজ স্টোর’ নামে তাঁর একটি দোকানঘর রয়েছে। পাশেই তাঁর চাচার আরেকটি দোকান রয়েছে। দোকান দুটির পেছনে তাঁদের কিছু খালি জায়গা রয়েছে। সম্প্রতি আতাউর রহমান বাজারে প্রচার করতে থাকেন যে, ওই খালি জায়গার পেছনে কিছু বিরোধপূর্ণ জমি তিনি কিনেছেন এবং সেই জমি দখলের চেষ্টা করেন।

জুয়েল আহমদ বলেন, তিনি তাঁর অসুস্থ বাবা ও মাকে নিয়ে কয়েকদিন ধরে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিলেন। এই সুযোগে গত শনিবার রাতে আতাউর রহমান তাঁর লোকজন দিয়ে তাঁদের দোকানঘরের পেছনের জায়গাসহ পুরো জমিতে পাকা দেয়াল তুলে জমি দখল করে নেন। এমনকি দোকানের পেছনে থাকা স্টিলের দরজা ও জানালাগুলো ওয়েল্ডিং করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা পেছনের জায়গায় যাতায়াত করতে না পারেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে বাড়িতে ফিরে বাজার কমিটিকে জানান। সোমবার রাতে বাজার কমিটি বসে আতাউর রহমানকে জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে দেয়াল সরিয়ে নিতে হবে। আতাউর রহমান সম্মতি দিলেও পরে তিনি আর দেয়াল সরাননি। পরে মঙ্গলবার বিকেলে ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেন।বাজার কমিটির সহ-সভাপতি খোকন আহমদ বলেন, ‘এই জমি জুয়েল আহমদের পরিবারের। বাজার কমিটি বসে আতাউর রহমানকে দেয়াল সরিয়ে নিতে বলেছে। কিন্তু তিনি কথা দিয়েও কথা রাখেননি। আতাউর এভাবে জমি দখল করে অন্যায় করেছেন।’

এরোয়াখাই গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণভাবে জমি দখলের ঘটনা। এনসিপির নাম ভাঙিয়ে আতাউর এলাকায় নানা ধরনের হয়রানি, দখল ও চাঁদাবাজি করছেন। কিছুদিন আগে বাজারের নৌকাঘাটও তাঁর লোকজন দিয়ে দখল করেছেন।’

দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা ফরিদ আহমদ সম্প্রতি এনসিপির জেলা প্রধান সমন্বয়কারীর কাছে আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে নৌকাঘাট দখল ও চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, চকবাজার থেকে ফরিদ আহমদের একটি নৌকা যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে নিয়মিত চলাচল করে। গত প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি এ নৌকা চালাচ্ছেন। আতাউর রহমান গত জুন মাসে নিজেকে এনসিপি নেতা পরিচয় দিয়ে ফরিদ আহমদকে জানান, নৌকা চালাতে হলে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। বাধ্য হয়ে তিনি ১০ জুন থেকে প্রতিদিন টাকা দিতে শুরু করেন। কিন্তু পরে আতাউর এককালীন দুই লাখ টাকা দাবি করেন। ফরিদ আহমদ এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১৩ আগস্ট থেকে তাঁর নৌকা বন্ধ করে দিয়ে নিজেই নৌকা চালু করেন। ফরিদ বলেন, ‘আমি বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি, তার প্রমাণ আমার কাছে আছে। আতাউর আমাকে হুমকিও দিয়েছেন।’

অভিযোগ সম্পর্কে আতাউর রহমান বলেন, ‘বাজারে আমি কিছু জমি কিনেছি, কিন্তু দখল করিনি। আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছে, তারা সবাই আওয়ামী লীগের দোসর।’ চাঁদাবাজির অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কারো কাছ থেকে চাঁদা চাইনি বা নিইনি। এলাকার কিছু লোক মসজিদের নামে টাকা নিয়েছে, তারাই নৌকা চালাচ্ছে।’

এনসিপির জেলার প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, সেটি কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রের সঙ্গে পরামর্শ করেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর