মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের সাগাইং অঞ্চলে একটি বৌদ্ধ উৎসব চলাকালে সেনাবাহিনীর প্যারাগ্লাইডার থেকে বোমা হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৬ অক্টোবর) রাতে থাডিংগ্যুট পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিবিসি বার্মিজ।
সেই সময় প্রায় ১০০ জন মানুষ সেনা সরকারের বাধ্যতামূলক নিয়োগনীতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলেন। ঠিক সেই সময় সেনা বাহিনীর মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার (paramotor) থেকে পরপর দুটি বোমা ফেলা হয়।
স্থানীয় “পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (PDF)”–এর এক কর্মকর্তা বলেন, হামলার সম্ভাবনার খবর আগে থেকেই জানা থাকলেও আকাশপথে প্যারাগ্লাইডারগুলো প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত পৌঁছে যায়। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে সবকিছু ঘটে যায়। হামলায় তাঁর পা আহত হয়েছে, তবে তাঁর পাশে থাকা অনেকে ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এক নারী প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “শিশুদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এখনো আমরা দেহাবশেষ সংগ্রহ করছি।”
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। সামরিক জান্তা এখন পর্যন্ত দেশের অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল হারালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীন ও রাশিয়ার সহযোগিতায় তারা আবারও অবস্থান শক্ত করছে। নতুন ড্রোন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়ে সেনারা বিমান হামলার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিবিসি বার্মিজ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমান ও জেট জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হওয়ায় সেনারা এখন মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডারকেই আকাশ হামলার নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার ব্যবহার করে বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা “একটি ভয়াবহ নতুন প্রবণতা”। সংস্থার মিয়ানমার গবেষক জো ফ্রিম্যান বলেন, “এই হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য জাগরণের ঘণ্টা হওয়া উচিত। এখনই মিয়ানমারের সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন “সেনা সরকারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে” এবং প্রায় পাঁচ বছর ধরে ব্যর্থ নীতি পুনর্বিবেচনা করে। মিয়ানমার ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে—এটাই হবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম ভোট। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সামরিক শাসন বৈধ করার একটি প্রচেষ্টা মাত্র। বহু বিরোধী দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে কেবল সেনা-নিয়ন্ত্রিত অর্ধেক এলাকায়।
সূত্র: বিবিসি বার্মিজ, এএফপি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, রয়টার্স