শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ও ইইউর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩৪ টাইম ভিউ
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ও ইইউর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ইরানের

সাম্প্রতিক দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইউরোপীয় দেশগুলো পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ অভিযোগ করেন। খবর আলজাজিরার।

পেজেশকিয়ান বলেন, তারা নিরীহ মানুষদের এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেছে, রাস্তায় নামিয়েছে এবং দেশকে টুকরো টুকরো করার জন্য উসকানি দিয়েছে। মানুষের মধ্যে বিভাজন, সহিংসতা ও ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক কোনো বিক্ষোভে মানুষ অস্ত্র তোলে না, সামরিক সদস্যদের হত্যা করে না, অ্যাম্বুলেন্স ও বাজারে আগুন দেয় না। প্রকৃত প্রতিবাদ হলে আমরা প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে বসে কথা বলতাম, তাদের দাবি শুনতাম এবং সমাধান করতাম। আমরা এখনো শুনতে প্রস্তুত।

পেজেশকিয়ান বলেন, এই আন্দোলন কেবল সামাজিক প্রতিবাদ ছিল না। বিদেশি শক্তিগুলো আমাদের সমস্যাকে কাজে লাগিয়েছে, আমাদের উসকানি দিয়েছে এবং সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তাদের দাবি, নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অথবা তথাকথিত ‘দাঙ্গাকারীদের’ সহিংসতায় নিহত নিরীহ পথচারী। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভ দমনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৌবাহিনী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ইরানের ওপর হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনা করতে প্রস্তুত তেহরান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হুমকির ছায়ায় কোনো আলোচনা হতে পারে না। ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কখনোই আলোচনার বিষয় হবে না।

অন্যদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ও আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভ চলাকালে হাজারো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীর মৃত্যুর জন্য দায়ী।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিতর্কিত ইরানি ব্যবসায়ী বাবাক মরতেজা জানজানির নামও রয়েছে। জানজানির বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র জানজানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময় প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ট্রেজারি বিভাগ জানায়, এসব প্ল্যাটফর্ম আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর