ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানের দুই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি এখনো জীবিত এবং সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল-১২ খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন।
চ্যানেল-১২ আরও দাবি করে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-কে নাকি খামেনির মৃতদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজের প্রাসাদের কমপাউন্ডে প্রাণ হারান খামেনি এবং সেখান থেকেই ইরানি উদ্ধারকারীরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ ও মেহের নিউজ সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তারা জানায়, সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত আছেন এবং দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত মৃত্যুসংবাদ ভিত্তিহীন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা উল্লেখ করেছে, রয়টার্স ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর পুরোপুরি বিপরীত। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও গভীর হয়েছে।
এদিকে শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে খামেনির প্রাসাদকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয় বলে খবর পাওয়া যায়। এতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস একটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে। সেই ছবিতে দেখা যায়, খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভবনটি কার্যত মাটির সঙ্গে মিশে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব দাবির বিপরীতে ইরানি সংবাদমাধ্যমের অবস্থান একেবারেই আলাদা। খামেনি জীবিত আছেন—এমন তথ্য সামনে আসায় আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির সঠিক চিত্র জানতে এখনো নির্ভরযোগ্য ও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা করছে বিশ্ব। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা