বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে এবার কঠোর বিধিনিষেধ ও টোল আরোপ করেছে ইরান। ওয়াশিংটন পোস্ট ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন থেকে এই পথ ব্যবহারকারী প্রতিটি তেলের জাহাজকে ব্যারেল প্রতি ১ ডলার করে টোল দিতে হবে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে হয় ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন বিটকয়েন) অথবা চীনা মুদ্রা ইউয়ানে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের ঘোষণা অনুযায়ী, খালি জাহাজকে কোনো ফি দিতে না হলেও পণ্যবাহী জাহাজকে আগেভাগেই টোল পরিশোধ করতে হবে। একটি সুপার ট্যাংকার পার হতে এখন থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ হবে। এছাড়া, জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানের উপকূলের খুব কাছ দিয়ে অর্থাৎ কাশেম ও লারেক দ্বীপপুঞ্জের মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে হবে। বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজগুলো অগ্রাধিকার পেলেও শত্রুভাবাপন্ন দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বা নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মূলত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতেই এই কৌশল নিয়েছে তেহরান। ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিশ্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে লেনদেন করতেই ক্রিপ্টো ও ইউয়ানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, ইউয়ানে টোল আদায় ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, যা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে তেলের বিশ্ব বাণিজ্য পশ্চিমা ব্যবস্থা থেকে বিচ্যুত হতে পারে।