সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় জোর রাষ্ট্রপতির জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন যারা ফ্রান্সে দিনভর বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৩১৪ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে বাংলাদেশে আবার বিদ্যুৎ পাঠাচ্ছে নেপাল অক্টোবরে ২৪ দিনে এলো ২৬৪০০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ পতিত ফ্যাসিস্টদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতায় ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে : আইজিপি বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে : শফিকুর রহমান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওবামার কড়া সমালোচনা করলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা

ধূমপায়ীদের রক্তে ৬ গুণ বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক, হৃদ্‌রোগ নিয়ে নতুন সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬০ টাইম ভিউ
ছবি সংগ্রহীত

ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন গবেষকেরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালির রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণের সংস্পর্শেও রক্তে এসব অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষণাটি ইতালির রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটি ও সান্ত’আন্দ্রেয়া ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। গবেষণায় হৃদ্‌রোগের বিভিন্ন অবস্থায় থাকা ৬১ জন রোগীর হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৯ জন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত, ২০ জন হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত এবং ২২ জনের রক্তনালি স্বাভাবিক ছিল।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। হার্ট অ্যাটাক না হলেও দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪০ শতাংশ। আর যাদের হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালি স্বাভাবিক ছিল, তাদের ৩২ শতাংশের রক্তে এসব প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

গবেষণায় রক্তে শনাক্ত হওয়া প্লাস্টিকের মধ্যে পলিইথিলিন সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এই ধরনের প্লাস্টিক প্যাকেজিং, বোতলসহ নানা ভোগ্যপণ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তদের রক্তে শুধু কণার উপস্থিতিই বেশি ছিল না, বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের বৈচিত্র্যও তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে।

ধূমপান ও বায়ুদূষণের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির সম্পর্কও গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের রক্তে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। গবেষকদের মতে, ধূমপানের ইতিহাসই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার একটি স্বাধীন পূর্বাভাসদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বায়ুদূষণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রার সূক্ষ্ম কণাদূষণের (PM2.5) সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। যারা একই সঙ্গে ধূমপান করতেন এবং বেশি বায়ুদূষণের এলাকায় বসবাস করতেন, তাদের সবার রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়। বিপরীতে, ধূমপান না করা এবং বেশি বায়ুদূষণের সংস্পর্শে না থাকা ব্যক্তিদের মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে এসব কণা পাওয়া গেছে।

গবেষকদের ধারণা, ধূমপান ও বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এই ব্যাখ্যা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয় এবং এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতোর মতে, গবেষণার ফলাফল মাইক্রোপ্লাস্টিককে হার্ট অ্যাটাকের সরাসরি কারণ হিসেবে প্রমাণ করে না। বরং পরিবেশগত দূষণ, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদ্‌রোগের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গবেষণাটির অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কম—মাত্র ৬১ জন। ফলে এই ফলাফলকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে শরীরে প্রবেশ করে, দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কী এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে এর প্রকৃত ভূমিকা কতটা—তা নিশ্চিত করতে আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

তবে গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে। ধূমপান ও বায়ুদূষণের মতো পরিচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি পরিবেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকও ভবিষ্যতে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে আরও প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে ধূমপান পরিহার, বায়ুদূষণ কমানো এবং পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণের মতো প্রতিষ্ঠিত জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর