মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিশুরাই গড়বে আগামী দিনের নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা আটক রাবিতে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় তিন ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার বিক্ষোভের মুখে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর আলজেরিয়া থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি-সার আমদানি করবে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৫২ বছর ধরে এক টাকায় পড়ানো গাইবান্ধার লুৎফুর রহমান পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০১ শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯০২ দিল্লিতে নারী বিক্ষোভকারীদের হেনস্থা, ‘দ্বিতীয় যন্তর মন্তরের’ ডাক ককরোচদের তানিয়া বৃষ্টি এ মাসে ফিরতে চান শুটিংয়ে

দিল্লিতে নারী বিক্ষোভকারীদের হেনস্থা, ‘দ্বিতীয় যন্তর মন্তরের’ ডাক ককরোচদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯ টাইম ভিউ
দিল্লিতে নারী বিক্ষোভকারীদের হেনস্থা, ‘দ্বিতীয় যন্তর মন্তরের’ ডাক ককরোচদের
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে টানা তিন দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও আগামী ১০ অক্টোবর ফের বিক্ষোভ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর একাংশ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) গান্ধী জয়ন্তীর দিনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তী দুই দিনও এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। আন্দোলন ঘিরে পুলিশের আচরণ নিয়েও অভিযোগ ওঠে। অনেক বিক্ষোভকারী এ কর্মসূচিকে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তবে এবার দিল্লিতে পুলিশকে আগের তুলনায় বেশি তৎপর দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীদের কাউকেই যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

রোববার দিল্লিতে সাধারণ মানুষ, সমাজকর্মী ও ছাত্র সংগঠনগুলো ইন্ডিয়া গেট থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত ‘সিটিজেন্স মার্চ’ বের করে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। শনিবার দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে রোববার আন্দোলন আরও তীব্র হয়।

গত কয়েক দিন ধরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কয়েকটি কলেজ ক্যাম্পাসে নারী সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন ছাত্রছাত্রীরা। এরই মধ্যে যন্তর মন্তরে নারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের আচরণ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। দুই আলাদা প্রতিবাদের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। রোববার ইন্ডিয়া গেট থেকে যন্তর মন্তরমুখী মিছিল চলাকালে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসার সভাপতি নেহা বোরাসহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়।

নেহা বোরা অভিযোগ করেন, যে গাড়িতে পুলিশ তাকে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছিলেন না। পরে তাকে যন্তর মন্তর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের নারেলা এলাকায় নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আইসার অভিযোগ, সে সময় নেহা বোরার সঙ্গে তার ফোনও ছিল না। ছাত্র সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ চলাকালে আরও কয়েকজন নেতা দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন।

এ প্রতিবাদে আম আদমি পার্টির কর্মীরাও ইন্ডিয়া গেট এলাকায় বড় সংখ্যায় উপস্থিত হন। দলটির দিল্লি প্রদেশ সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজকেও বিক্ষোভের সময় আটক করে দিল্লি পুলিশ। সৌরভ ভরদ্বাজ এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ‘এগুলো আমার জুতো, যা হাওয়ায় ঝুলে আছে। আজ ইন্ডিয়া গেটে দিল্লি পুলিশ আমাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, যাতে ক্যামেরায় আমার মুখ ধরা না পড়ে। ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

সমাজকর্মী যোগেন্দ্র ইয়াদভ বলেন, ‘আজও নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর-মন্তরের দিকে যাওয়ার সময়ে পুলিশ আমাদের জোর করে আটক করেছে। এটি শুধু এক দিনের প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।’

রোববার সন্ধ্যায় ইন্ডিয়ান ইউথ কংগ্রেস জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মিছিল করে বিক্ষোভ দেখায়। ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। ইউথ কংগ্রেস এক্সে লিখেছে, ‘যন্তর-মন্তরকে আবার মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা এবং জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতারের দাবিতে আইওয়াইসি কর্মীরা যন্তর-মন্তর রোডে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছে।’

এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এবং রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) রোববার মুম্বাইয়ে ‘গর্জনা মোর্চা’ আয়োজন করে। ওই কর্মসূচিতে উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরে দুজনেই অংশ নেন।

রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ে আন্দোলন শুরু করা ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে আগামী ১০ অক্টোবর নতুন করে দিল্লিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছি, আপনিও গুছিয়ে নিন, দিল্লি রওনা হতে হবে।’

শনিবার কী ঘটেছিল?

শনিবার বহু সমাজকর্মী দিল্লির যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ কেরল হাউসের কাছে তাদের আটকে দেয় এবং আটক করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিবিসি নিউজ হিন্দির সংবাদদাতা দিলনওয়াজ পাশা জানান, বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য তাদের কেরল হাউসের কাছে আটকে দেন।

২ অক্টোবরের বিক্ষোভের পর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা শনিবারও যন্তর মন্তরে যাওয়ার ডাক দিয়েছিল।

এ বিক্ষোভে আইসা কর্মীদের পাশাপাশি সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ও প্রশান্ত ভূষণও উপস্থিত ছিলেন। তাদেরও অন্যদের সঙ্গে আটক করা হয়। নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এক নারী পুলিশ সদস্য তাকে কনুই ও নখ দিয়ে আঘাত করেন। শনিবারের বিক্ষোভের সময় দুই নারী সাংবাদিক এবং এক নারী বিক্ষোভকারীকে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য যৌন হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এক নারী সাংবাদিকের অভিযোগ, আইসা সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করার সময় এসিপি বিবেক ভগত তার বুকে হাত দেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরে যান। আরও এক প্রবীণ নারী সাংবাদিক ও এক বিক্ষোভকারী তরুণী দিল্লি পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন হামলার অভিযোগ তোলেন।

এরপর শনিবার ও রোববার সাংবাদিকরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে প্রতিবাদ জানান।

এ অভিযোগ দিল্লি পুলিশ নস্যাৎ না করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, নারীদের হেনস্থার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।

শুক্রবার মুম্বাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভ

ইংরেজি সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনের পর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে প্রতিবাদের ডাক দেয়। মুম্বাইয়ে সিজেপির ডাকে শিবাজি পার্কে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। পুলিশ অনুমতি না দিলেও বিক্ষোভকারীরা সেখানে পৌঁছে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘সরকার এতটাই অযোগ্য যে দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার আমাদের বিক্ষোভ করতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গান্ধী যদি এই দেশের আত্মা হন, তবে আম্বেদকর এই দেশের মেরুদণ্ড। ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং নেহরুই আমাদের ভোটাধিকার দিয়েছেন।’

মুম্বাইয়ের কর্মসূচিতে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি এবং সুরকার-গায়ক বিশাল দাদলানিও উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাও এই আন্দোলনকে সমর্থন জানায়।

একই সময়ে আইসা ও কয়েকজন সমাজকর্মী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়েছিলেন। দিল্লিতে পুলিশ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি এবং দিল্লি মেট্রোও ১০টির বেশি স্টেশন বন্ধ করে দেয়। তবু বিপুলসংখ্যক মানুষ যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। নেহা বোরা, প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদব, সৌরভ ভরদ্বাজ এবং সঞ্জয় সিংকে আটক করা হয়। তবে কাউকেই যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি।

এদিকে নির্বাচন কমিশন শুক্রবার সকালে এক্সে পোস্ট করে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এ বাদ পড়া নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয়।

এ অভিযানের আওতায় ভোটার তালিকা যাচাই, বাদ পড়া ভোটারদের চিহ্নিত করা এবং ফর্ম সিক্স পূরণ করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি যাবেন, তরুণ ভোটারদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং বুথ পর্যায়ে বিশেষ শিবির আয়োজন করা হবে।

কেন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে?

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ছাড়া আরও যে দুজন নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন, তারা গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি এবং তারা বারবার আপত্তি তুলেছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, নাম বাদ দেওয়া এবং তথাকথিত ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলো এবং ককরোচ জনতা পার্টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর