শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

ইরানের ‘মনস্টার মিসাইল’ তাড়িয়ে বেড়াবে ইসরায়েলিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫
  • ১৩১ টাইম ভিউ

ইরানের এই মিসাইল কোনো সাধারণ অস্ত্র নয়। এটি একযোগে বহু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম একটি উন্মুক্ত হুমকি। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ একে বলেছিলেন, ‘ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম ভয়ঙ্কর মিসাইল’।

ঠিক যেন গ্রিক ট্র্যাজেডির পুনর্জন্ম, কিন্তু এবার রক্তাক্ত মঞ্চ বসেছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান যখন তাদের ‘মনস্টার মিসাইল’ খেইবার শেকান ছুঁড়ে দেয়, তা যেন এক পৌরাণিক দানবের লেলিহান জিহ্বার মতো আছড়ে পড়ে দক্ষিণ ইসরায়েলের শহর বিরশেবাতে। ভোরের ঠিক আগে, যখন মানুষ ঘুমের অতলে, তখনই ছিন্নভিন্ন হয় একটি আবাসিক ভবনের একপাশ।

বিস্ফোরণ ঘটে সেই ‘নিরাপদ’ ঘরে, যাকে তারা আশ্রয়ের শেষ ভরসা ভাবছিল।মিসাইলের বুকে যেন লেখা ছিল— ‘আমরা জানি, কোথায় তোমার দুর্বলতা’। ইরানের এই মিসাইল কোনো সাধারণ অস্ত্র নয়। এটি একযোগে বহু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম একটি উন্মুক্ত হুমকি। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ একে বলেছিলেন, ‘ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম ভয়ঙ্কর মিসাইল’।তবে মিসাইলের চেয়েও বেশি ভয় জাগায় যে বিষয়টি, তা হলো ইসরায়েলের নিজস্ব দুর্বলতা। তার ‘অকিলিস হিল’।

গ্রীক পুরাণে অ্যাকিলিস ছিল অজেয়, তবে তার গোড়ালি ছিল একমাত্র আঘাতযোগ্য স্থান। আজকের ইসরায়েল, যার প্রযুক্তি, গোয়েন্দা দক্ষতা ও আয়রন ডোম সারা বিশ্বে প্রশংসিত, সেই রাষ্ট্রের বুকে আজ যে অসহায়তা ফুটে উঠেছে, তা অকিলিসের সেই গোড়ালির মতোই স্পষ্ট।

আয়রন ডোম মূলত স্বল্প থেকে মধ্যপাল্লার রকেট ও আর্টিলারি শেলের বিরুদ্ধে কার্যকর, বিশেষত যেগুলো এককভাবে ছোড়া হয়। কিন্তু ইরানের খাইবার শেকান বা ‘মনস্টার মিসাইল’ একটি দীর্ঘ পাল্লার, দ্রুতগামী ও বহু ওয়ারহেডধারী ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা উচ্চতা ও গতি উভয়দিক থেকেই আয়রন ডোমের সক্ষমতার বাইরে। একাধিক ওয়ারহেড একযোগে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধাবিত হওয়ায় প্রতিটি বাধা দেওয়ার জন্য আলাদা ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন হয়, যা প্রযুক্তিগতভাবে জটিল ও ব্যয়সাধ্য। এর ফলে এই ধরণের মিসাইল সম্পূর্ণরূপে ঠেকানো আয়রন ডোমের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

যুদ্ধবিরতির পর অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে ইসরায়েলি নাগরিকদের জীবনে। তবে ওই মনস্টার মিসাইল নিশ্চিতভাবেই তাড়িয়ে বেড়াবে ইসরায়েলিদের। কারণ সত্যটা তারা জানেন ইরান হয়তো থেমেছে, কিন্তু তার মিসাইলগুলো রয়ে গেছে। তারা জানেন, ইরানের হাতে এখনো শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইল মজুত রয়েছে—যেগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হলেও, নিখুঁত নয়। আয়রন ডোম হয়তো অনেক মিসাইল ঠেকায়, কিন্তু সব নয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর