আন্তজার্তিক ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মুসল্লিদের ওপর থেকে বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পবিত্র মসজিদুল আকসার খতিব শায়খ ইকরামা সাবরি। তিনি বলেন, ‘রমজান মাসে মুসল্লিরা মসজিদুল আকসায় নামাজ পড়তে খুবই আগ্রহী। তবে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী মুসল্লিদের প্রবেশে নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করোপ করেছে। বিশেষত ৫০ বছরের কম বয়সীদের ওপর তারা কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
গত ৯ মার্চ আলজাজিরা মুবাশিরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। বিধি-নিষেধের পরও রমজান মাসজুড়ে আল-আকসায় মুসল্লিদের সমাগম থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শায়খ ইকরামা সাবরি। তিনি বলেন, ‘পবিত্র মসজিদুল আকসার ন্যায্য অধিকার কেবল মুসলিমদের। তা কোনো কর্তৃত্ববাদী সিদ্ধান্তের অধীনে নয়।
পুরো রমজান মাসে হাজার হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটবে। কাউকে আল-আকাসায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তিনি যেন সেখানে নামাজ পড়েন, যে স্থানে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে।’
শায়খ ইকরামা সাবরি আরো বলেন, ‘আমরা পবিত্র মসজিদুল আকসার ওপর থেকে সব ধরনের বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ইসরায়েলি দখলদার যেন রমজান মাসে মসজিদুল আকসা থেকে তাদের বাহিনীকে তুলে নেয় এবং সব মুসল্লিকে মসজিদে প্রবেশের অধিকার দেয়।
এ সময় তিনি সারা বিশ্বের মুসলিমদের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ স্মরণ রাখার পাশাপাশি গাজায় অবরুদ্ধ নিপীড়িত মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১১ মার্চ থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। প্রতিবছর রমজান মাসজুড়ে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিত তীরসহ দূর-দূরান্ত থেকে আল-আকসা মসজিদে নামাজ পড়তে যান মুসল্লিরা। তবে গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ শুরুর পর আল-আকসায় প্রবেশে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে ইসরায়েল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত মাসে প্রথমবার জুমার নামাজে সর্বোচ্চসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত হন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ৯৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরো ৭২ হাজার ৫২৪ জন। যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গাজায় খাবার ও পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এবং এতে বহু মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।